Posts tagged ‘পুলিশ’

June 18, 2016

জঙ্গী ফাহিমের ক্রসফায়ার (ভিডিওসহ)

একই পোশাকে পুলিশ ও জঙ্গি (ছবিটি প্রতিকী)

একই পোশাকে পুলিশ ও জঙ্গি (ছবিটি প্রতিকী)

মাদারিপুর প্রতিনিধিঃ মাদারিপুরে কলেজ শিক্ষক রিপন চক্রবর্তীর উপর হামলা করতে গিয়ে জনগণের হাতে ধরা খাওয়া জঙ্গী ফাহিমকে বন্দুকযুদ্ধের নাম করে পুলিশ মেরে ফেলেছে। মেরে ফেলার পর আজ শনিবার সকালে ফাহিমের লাশ মাদারিপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

মাদারিপুর পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, তারা নিরূপায় হয়ে ফাহিসমে ক্রসফায়ারে ফেলেছেন। এই উর্ধ্বতন কর্মকর্তা যে একজন পুলিশ সুপার এবং তার নাম যে সারোয়ার হোসেন, এটা প্রতিবেদনে উল্লেখ না করার অনুরোধ করেন। তাই আমরা উল্লেখ করতে পারছি না বলে পাঠকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।

উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ফাহিম ১৮ বছর বয়সী জিপিএ ৫ পাওয়া জঙ্গী। সে হিজবুত তাহরীর এর সাথে সম্পৃক্ত। এক বড় ভাই ফাহিমকে এই পথে নিয়ে এসেছে। আর আমরা পুলিশরা ফাহিমকে বেহেশতের পথে নিয়ে গেলাম।

বিচারের আওতায় না এনে ক্রসফায়ারে দেয়ার বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় ছেলেটি সুন্দরভাবে সব কিছুর জবাব দিয়ে যাচ্ছে। তার নাম, বাপ মায়ের নাম, বয়স কত, প্রেম করে কিনা, বিড়ি খায় কিনা, মাস্টারবেট করে কিনা, সবকিছুর জবাবই সে দিচ্ছে। আমরা নিচ্ছি। খুব ভালো লাগছিলো। তাকে চা অফার করেছি, কিন্তু সে বললো খাবে না। সে চা খায় না। তো, আলাপ চলতে চলতে এক পর্যায়ে জঙ্গী ফাহিম আমাদের খালু, ফুফাদের নাম বলতে শুরু করে। আমরা বলেছি, না, এটা হতে পারে না। এতটুকুন বাচ্চা এত বড় বড় মানুষের নাম কেন জানবে? এটা মেনে নেয়া যায় না। আমরা মেনে নেইনি।”

“তারপর আমরা হিজবুত তাহরীরের সাথে যোগাযোগ করি। বলি, তোমাদের ছেলেকে ছিনিয়ে নিয়ে যাও, ও বেশি বুঝে। জবাবে বললো তারা ক্লান্ত। এখন ছিনিয়ে নিতে পারবে না। পরে দেখা যাবে। এবার যোগাযোগ করি আনসারুল্লাহ বাংলা টীমের সাথে। আনসারুল্লাহরা বলে ফাহিমকে দিয়ে ফেসবকে আইডি খুলিয়ে ধর্মকে অবজ্ঞা করে একটা স্ট্যাটাস দিতে। তারপর থানার সামনে ৫ মিনিটের জন্য ছেড়ে দিলে তারা ২ মিনিটের মধ্যে কল্লা ফেলে দিবে। কিন্তু আমরা রাজি হইনি। বলেছি চাপাতি দিয়ে কোপানো যাবে না। আর থানার সামনে ছাড়া যাবে না। তাকে গুলি করে মারতে হবে। আনসারুল্লাহ বলেছে গুলি করে মারলে সওয়াব কম। চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মেরে তারপর অনেকগুলো গুলি করে দিবে, সমস্যা নেই। আমরা মানা করে দিয়েছি।”

এরপরই কি আপনারা ক্রসফায়ারে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন? জিজ্ঞাসা করলে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “না, আমরা চেষ্টার কোন ক্রুটি করিনি। সংগঠনগুলোর দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছি, ছেলেটার জন্য একটু বেহেশতে ভিক্ষা চেয়েছি। কিন্তু কেউই ফাহিমকে বেহেশতে নিয়ে যেতে রাজি হচ্ছিলো না। তো, আনসারুল্লাহর পর আমরা জেএমবির কাছে যাই। তারা বলে সাঁড়াশি অভিযানে অনেক মুজাহিদ ধরা পড়েছে। এখন অপারেশন চালানোর ইচ্ছে নেই। তাছাড়া এই মালতো তাদের না। হিজবুত তাহরীরের। তাদের মাল তারাই সামলাবে।”

তারমানে এরপরই তাকে ক্রসফায়ারে দিয়ে দেন, তাই না? “না, তখনো আমাদের ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙ্গেনি। চিরুনি চালিয়ে খবর নিয়েছি ফাহিম কোন মন্ত্রী, এমপি, সচিব, নেতা, উপনেতা’র আত্মীয় কিনা। ভেবেছি সেরকম কিছু হলে জামিন পাইয়ে দিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে দিবো। কিন্তু কানেকশন পেলাম না। তারপর বাধ্য হয়ে ওলামালীগের সাথে যোগাযোগ করি। বলি, চাপাতিসহ দুইটা ওলামা পাঠান, একটা খ্যাপ আছে। তারা বলে রোজার দিন, খ্যাপ মারতে পারবে না। অনেক বুঝাইলাম, রাজি হলো না। বলে পুলিশের ফাঁদে পা দিবে না।”

এবার নিশ্চয় আর দেরি করেননি, একদম দিয়ে দিয়েছেন? “আপনার এত তাড়া কেন? আমাদের ঝামেলা আমাদেরকে মেটাতে দেন। ওলামা লীগ ফিরিয়ে দেয়ার পর শেষ ভরসা হেফাজতের সাথে যোগাযোগ করি। বলি, আপনাদের সোনাবাহিনী থেকে অল্প কয়টি সোনা পাঠান, একটা ফ্রাংকেস্টাইন মেরে যাক। অভিমানের সুরে হেফাজত বলে নতুন যেসব জঙ্গী সংগঠনের সাথে পুলিশের সম্পর্ক হয়েছে, তাদের কাছে যেতে। তারপর হেফাজত চলে যেতে থাকে। পেছন থেকে ডাক দিলে ‘আমায় ডেকো না, ফেরানো যাবে না…’ গান থেকে চার লাইন শুনিয়ে দেয়।”

বুঝতে পারছি, এরপরও আপনারা ক্রসফায়ার দেননি। বসে বসে ফাহিমের চেহারা দেখেছেন। “আরে না ভাই। চেহারা দেখার সময় কই। যে জানোয়ার আমাদের খালু, ফুফাদের নাম জানে, তাকেতো বাঁচিয়ে রাখা যাবে না। তাই আবারো যোগাযোগ করি হিজবুত তাহরীরের সাথে। বলি, আমরা ফাহিমকে নিয়ে মিয়ারচরে অভিযানে যাবো। তোমরা ওঁৎপেতে থাকবে। ফাহিম আগে আগে যাবে, আমরা পেছনে। তোমরা ফাহিমকে দু’টি গুলি করবে, আমরা তোমাদের দিকে দু’টি করবো। ফাহিম মরে যাবে, তোমরা চলে যাবে। কিন্তু হিজবুত তাহরীর শুনছিলো না। অনেক চাপাচাপির পর রাজি হলো।”

ওহ মাই গড! তারমানে ওরা নিজেদের জঙ্গী নিজেরা মেরেছে? “না, তা মারবে কেন? আমরা ভোরে মিয়ারচরে গিয়ে অনেক দূর পর্যন্ত চলে যাওয়ার পরও দেখি কেউ গুলিটুলি করছে না। কোন সাড়াশব্দ নাই। আসলে হিজবুত তাহরীর আসেনি। বেঈমানী করেছে। তো, ফেরার পথে নিরূপায় হয়ে আমরাই গুলি করে দিলাম। আসলে কিছু করার ছিলো না। এখন মনে করেন যে ঝামেলা কমে গেলো। সামান্য জিজ্ঞাসাবাদে সাপ বেরিয়ে এসেছে, পরে দেখা যাবে হাঙ্গর, কুমির, ডাইনোসর সব লাইন ধরে বেরিয়ে আসতেছে। কী দরকার এত রিস্কে যাওয়ার।”

তো, নিজেরা মেরে হিজবুত তাহরীরের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছেন কেন? “আহা! তাদেরইতো মারার কথা ছিলো। অর্থাৎ তারা তাদের জঙ্গীটাকে মারবে বলে কথা দিয়েছিলো। কিন্তু ঘটনাস্থলে আসতে পারেনি, তাই আমরা ফাহিমকে অন বিহাফ অব হিজবুত তাহরীর মেরে দিয়েছি। সেক্ষেত্রে দায় আমরা নিবো কেন?”

সবশেষে এই উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানালেন এটা একটা সংকেত ছাড়া অন্য কিছু নয়। একজন জঙ্গী জিহাদ করতে গিয়ে পাবলিকের হাতে ধরা খাইতেই পারে, এমনকি সে অনেক গোপন কথাও জানতে পারে, কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদে যেন সেসব বলে না দেয়, এ জন্য ফাহিমকে কিলিয়ে অন্যদের বুঝানো হয়েছে।

 

দেখুন দুর্ধর্ষ সেই ভিডিওঃ

April 12, 2011

পুলিশ পেটালো ঢাবি ছাত্ররা

মারামারি শেষে একটু পড়ার চেষ্টা করছে এক শিক্ষার্থী

বিশেষ পাকিবেদক ।। ১২ এপ্রিল ২০১১

ঢাবি ছাত্রবাহী বাসের সিগন্যাল মান্য অমান্যের জের ধরে ট্রাফিক পুলিশ মার খেলো প্রাচ্যের অক্সফোর্ডের শিক্ষার্থীদের হাতে। জ্বালিয়ে দিয়েছে একটি মটর সাইকেল।
মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে কলাবাগানের রাসেল স্কয়ারে এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঢাবি ছাত্রদের হামলায় একজন সহকারী পুলিশ কমিশনারসহ সাত জন আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রাসেল স্কয়ার থেকে সোজা ঢাবি ক্যাম্পাসে গিয়ে কয়েকজন ছাত্রের কাছে আসল ঘটনা জানতে চাই আমরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্র বলেন, “ছাত্রলীগের পুলাপানকে পুলিশবাহিনীতে ভর্তি করে সাহারা খাতুন দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ বাহিনীর ট্রাফিক বিভাগের ছেলেগুলো ইদানিং বেশি বেয়াদব হয়ে গেছে। আমরা ওদেরকে একটু বকে দিয়েছি।“

কিন্তু আইন মানার বিষয়টি জিজ্ঞেস করতেই এক ছাত্র মৃদু চিৎকার করে বলেন, “নেসেসিটি নোজ নো ল’!” কেমেস্ট্রি পড়ুয়া বয়োবৃদ্ধ এক শিক্ষার্থী বলেন, “অর্থনীতি বুঝেন? আমরা রাস্তায় ১০ মিনিট আটকে থাকার ফলাফল টের পান? ১০ মিনিট রাস্তায় আটকে থাকলে ক্লাশ মিস হতে পারে, তার ফলে আমরা ক্লাশের বাইরে ক্যান্টিনে গিয়ে প্রচুর চা চুরুট খেতে পারি। কেউবা অন্য কিছুও নিতে পারে। এক বাস স্টুডেন্ট যদি জনপ্রতি ২০ টাকা করে খরচ শুরু করে, পুঁজিবাজারে এর কি রকম প্রভাব পড়বে বুঝতে পারেন? ফলে সৃষ্ট বাজেট ঘাটতির জন্য আবার বিদেশী সাহায্য, আবার বিশ্বব্যাংকের শর্ত, আবার ড. ইউনুস।“ কেমেস্ট্রির এ শিক্ষার্থী বলতে বলতে হয়রান হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এক শিক্ষার্থী আবার সেখান থেকেই শুরু করেন, “যারা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে এহেন গর্তে ফেলতে চান, জাতির উচিত তাদের সম্পর্কে সচেতন থাকা।“

ঢাবি থেকে আবার ঘটনাস্থলে গেলাম। ওই সময়ে কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট মিজানুর রহমানের সামনে যেতেই তিনি বললেন, “আমরা আসলেই লজ্জিত। বাসের চেহারা দেখে প্রথমে ভেবেছি এটা কোন জেলা শহরের বাস ভুল করে সিটিতে চলে এসেছে। আরো কাছে গিয়ে যখন এর যাত্রীদের দেখলাম, তখন ভাবলাম এরা বুঝি দল বেঁধে বাংলা সিনেমা দেখতে যাচ্ছে। বাস এবং বাসযাত্রীদের দেখে কোনভাবেই বুঝা যাচ্ছিলো না এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সম্পৃক্ত।“

শেষে লজ্জায় লাল হতে হতে তিনি বলেন, “যদি জানতাম এইটা ঢাবির বাস, তাহলে কোন হালারপোয় অগোর লগে কথা কয়!”

%d bloggers like this: