Archive for ‘সাক্ষাৎকার’

December 13, 2011

মেহেরজান খ্যাত রুবাইয়াত এর সাক্ষাৎকার

রুবাইয়াত হোসেন

রুবাইয়াত হোসেন একজন বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত নির্মিত রোমান্টিক অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্রের মধ্যে অন্যতম “মেহেরজান” এর পরিচালক। তিনি আমাদের সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের কন্যা। আজ তার সাথে চলচ্চিত্র নিয়ে অনেক আলাপ করবো। সারাদিন কাজে ব্যস্ত থাকার জন্য সময় দিতে পারেননি। তাই শীতের মধ্যরাতে অনেক কষ্ট করে সময় ম্যানেজ করেছেন। এ জন্য আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন স্বয়ং দৈনিক মগবাজার সম্পাদক

দৈ. ম. –  কেমন আছেন আপনি? শীতের শুভেচ্ছা।

রুবাইয়াত –  আলহামদুলিল্লাহ ভালো। কিছুদিন ধরে শরীরটা ম্যাজম্যাজ করছে। আরেকটা মুভি বানানোর জন্য মনটা খচখচ করছে।

দৈ. ম. – মেহেরজান ধকল কাটিয়ে উঠেছেন? ভালোইতো চাপে, আই মীন প্রেসারে ছিলেন।

রুবাইয়াত – সত্যি কথা বলতে কী, এদেশের মানুষ এখনো সিনেমা বুঝে না। যেমন ধরুন গেরিলা সিনেমাটি, এটা কোন সিনেমা হলো! মুক্তিযুদ্ধের কিছু ঘটনাকে ভিডিও করেছে। আমরাও আমাদের বয়ফ্রেন্ডের সাথে অনেক ভিডিও করি। তাই বলে সেটা সিনেমা বলে চালিয়ে দিতে হবে? একটি সিনেমায় হাসি, কান্না, প্রেম, ধর্ষন, গোলাগুলি সবকিছু রাখতে হয়। নিরপেক্ষতা থাকতে হয়। ১৯৭১ সালে একটি ঘটনা ঘটেছে। প্রশ্ন হচ্ছে এক হাতে কখনো তালি বাজে? বাজে না। দোষ উভয়েরই ছিলো। যা হোক, সেসব পুরোনো বিষয় নিয়ে আর কথা বলতে ভালো লাগে না।

দৈ. ম. – ঠিক আছে, আমরা আর পুরোনো বিষয়ে কথা বলছি না। নতুন কী সিনেমা বানাবেন বলে ঠিক করেছেন?

রুবাইয়াত – এখনো নাম ঠিক করিনি। তবে আমার প্রথম ছবিটি যে কারণে বিতর্কিত হয়েছিলো, এবার আর তেমনটি করবো না। ওই সিনেমায়তো আমি একজন প্রেমিক সৈনিককে দেখাতে চেয়েছিলাম। এবারের প্লট একেবারে ভিন্ন। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালি গেরিলাদের হত্যা, জ্বালাও পোড়াও নিয়ে একটি সিনেমা বানাবো। ভরপুর একশন দৃশ্য। আর প্রেমের ছবি বানাবো না।

দৈ. ম. – দারুন হবে। পৃথিবীতে সবসময় দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার চলে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও বাঙালি গেরিলারা নিজের বাড়ির সামনে ক্ষমতা দেখালো আরকি! এ রকমইতো বলতে চাচ্ছেন?

রুবাইয়াত –  অ্যাগজাক্টলি! আপনি ঠিক বলেছেন। এসব নিয়ে অনেক অজানা ইতিহাস আছে। বেশিরভাগ মানুষ তা জানে না।

দৈ. ম. – আমরা জানি আপনি কবুতর খুব ভালোবাসেন। মেহেরজান সিনেমায় গ্রামের মুরুব্বী খাজা সাহেবের আশেপাশে বেশ কবুতর দেখতে পেয়েছিলাম। আপনার পরবর্তী সিনেমায়ও কি কবুতর থাকবে?

রুবাইয়াত –  দেখুন কবুতর হচ্ছে শান্তির প্রতীক, প্রেমের প্রতীক। মেহেরজান ছিলো একটি প্রেমের ছবি, সেখানে খাজা সাহেব একজন শান্তিবাদী মানুষ। উনার আশেপাশে কবুতর থাকা খুব স্বাভাবিক বিষয়। পরবর্তী সিনেমায় কাহিনীর প্রয়োজনে কবুতর রাখতে পারবো না।

দৈ. ম. – খাজা সাহেব বেশ শান্তিবাদী লোক…। আচ্ছা উনি কি শান্তি কমিটির লোক ছিলেন?

রুবাইয়াত –  সেটা ফরহাদ দা বলতে পারেন।

দৈ. ম. – উনি আবার কে?

রুবাইয়াত –  আপনি ফরহাদ দা কে চিনেন না? আশ্চর্য! কৃষিবিদ ফরহাদ মজহারের নাম এ দেশের সবাই জানে, আপনি জানেন না?

দৈ. ম. – আমি দু:খিত। উনি সরস্বতী দেবীর পূজা করেন এ জন্য দা বলে সম্বোধন করেছেন, এটা বুঝতে পারিনি। বাই দ্য ওয়ে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়টাকে আপনি কী চোখে দেখেন?

রুবাইয়াত –  ওহ মাই সুইট মুক্তিযুদ্ধ। আমি যুদ্ধ খুব লাইক করি। মুক্তিযুদ্ধ খুবই ভালো জিনিস। প্রত্যেকটি মানুষের উচিত জীবনে অন্তত একবার মুক্তিযুদ্ধ করা।

দৈ. ম. – কিন্তু মেহেরজান সিনেমায় দেখেছি কয়েকজন যুবক কোনভাবেই যুদ্ধে যেতে রাজি নয়। ওরা বিয়ে করতে চায়। ওদেরকে দিয়ে কেন যুদ্ধ করাতে চাননি?

রুবাইয়াত –  যুদ্ধে যাবে, তাতে সমস্যা নেই। কিন্তু বিয়ে না করিয়েই তাদেরকে যুদ্ধে পাঠিয়ে দিবেন? যুদ্ধে গিয়ে যদি মরে যায়? আপনি বোধহয় বিয়ে করেননি তাই এমন কথা বলছেন। বিয়ের মজা পেলে আর এমন কথা বলতেন না। হি হি!

দৈ. ম. – মেহেরজান সিনেমায় নায়িকার একটি সংলাপ ছিলো, “আমি তোমাকে জেনুইনলি ভালোবাসি”। আগামী সিনেমায় কি এ ধরনের সংলাপ আমরা দেখতে পারবো?

রুবাইয়াত – ওই সিনেমার সংলাপগুলো বড্ড সেকেলে ছিলো। ‘জেনুইনলি’ শব্দটি আমারো পছন্দ হয়নি। “আমি তোমাকে হার্ডকোর ভালোবাসি” – সংলাপটি এরকম হলে ভালো হতো। পরবর্তী সিনেমায় এসব সংশোধন করে নিবো। ভাষা আরো আধুনিক করার চেষ্টা করবো।

দৈ. ম. – আপনার পরবর্তী সিনেমা দেখার অপেক্ষায় থাকলাম। এবার আসি ব্যক্তিগত বিষয়ে। আপনার সন্তানরা কে কী করছে?

রুবাইয়াত – আশ্চর্য! আমিতো এখনো বিয়েই করিনি।

দৈ. ম. – না মানে, একটা প্রশ্নের জবাবে বিয়ে মজা’র কথা বলেছেনতো, তাই ভাবলাম …। যা হোক, দৈনিক মগবাজারের সাথে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

রুবাইয়াত –  আপনাকেও ধন্যবাদ। দৈনিক মগবাজারের পাঠকদের জন্য শুভেচ্ছা।

%d bloggers like this: