Archive for ‘সম্পাদকীয়’

February 8, 2012

সঠিক লাইনে ছাত্রলীগ

ছাত্র শিবিরের আদি এবং অকৃত্রিম লক্ষ্য শহীদ হওয়া। হোয়াট অ্যা হোলি অ্যাম্বিশন! তাদের লক্ষ্যের প্রতি পুরো জাতি শ্রদ্ধাশীল। মনে প্রাণে চায় এরা অতি দ্রুত শহীদের সম্মান পেয়ে যাক। আজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২জন শহীদ হয়েছে (আলহামদুলিল্লাহ)। শহীদ হলে বেহেশত নিশ্চিত। দু দু’টি মাসুম বাচ্চার বেহেশত প্রাপ্তিতে গঠনমূলক ভূমিকা রেখেছে ছাত্রলীগ। অনেকদিন পর ছাত্রলীগ কোন ভালো কাজ করলো।

চট্টগ্রামে আজ আনন্দের শেষ নাই। সারারাত ধরে চ.বি ক্যাম্পাসে পাখিরা গান গাইবে, ফুলেরা ফুটতে থাকবে, প্রজাপতি উড়তে থাকবে। বালিকারা চুলে ফিতা বাঁধবে। সানগ্লাস লাগিয়ে জোছনা দেখবে যুবকের চোখ। গুছিয়ে বলতে গেলে বলতে হয়, “আজ ঈদ। চ.বি’র হলে হলে আনন্দ!” কিন্তু এ আনন্দ মেনে নিতে পারছে না একটা গোষ্ঠী। দু’টো ছেলে শহীদ হয়ে, বেহেশতটা কনফার্ম করেছে, একটু ভালোমন্দ শরবত টরবত খাবে। আর ওই গোষ্ঠীর যেন পাছায় আগুন লেগেছে! হিংসায় পুড়ে যাচ্ছে ওদের ল্যাঞ্জা। যাদের সহযোগিতা ছাড়া এমন অর্জন সম্ভব ছিলো না, সে ছাত্রলীগের বিচার চাইছে এ হিংসুটে গোষ্ঠী!

ছাত্রলীগ ভুলে গিয়েছিলো লীগের হাতে লীগ মরলে শহীদ হয় না, খুন হয়। কিন্তু লীগতো নস্যি, কুত্তার কামড় খেয়েও যদি কোন শিবিরের মরন হয়, তাহলে সেটা মৃত্যু নয় শাহাদাত বরন! একজন মানুষকে শহীদ হতে সাহায্য করে নিন্দুকের মুখে ছাই মেরেছে ছাত্রলীগ। ওরা প্রমাণ করেছে, ছাত্রলীগও ভালো কাজ করতে পারে।

ছাত্রলীগের উচিৎ মনযোগের সাথে এ ধরনের ভালো কাজ করে যাওয়া। খুন করলে পাপ হয়, শহীদ করলে পূণ্য হয়। অস্থিরতা কমিয়ে, দক্ষতার ছাপ রেখে নিয়মিত ভালো কাজ করে যাবে ছাত্রলীগ। এমন আশাই এ দেশের মানুষ করে। যারা দু’টি নাবালক দুগ্ধপোষ্যের শহীদ হওয়া মেনে নিতে পারছে না, তাদের উপর খোদার গজব পড়ুক, গওহর রিজভীর নজর পড়ুক।

দু’জনকে বেহেশতের টিকিট ধরালেই চলবে না। হাজার হাজার মুজাহিদ তাকিয়ে আছে ছাত্রলীগের মুখের দিকে। ওদের প্রতি সুদৃষ্টি রাখতে হবে। চ.বিতে হয়েছে, এখনো রা.বি বাকি আছে, শাবি বাকি আছে। ইনসাফের সহিত টিকিট বন্টন করতে হবে। বৈষম্য করলে হবে না। নিশ্চয় জাতি ভালো কাজে দোয়া করবে এবং বৈষম্যে বদদোয়া দেবে। – জয় বাংলা। জয় মগবাজার।

July 27, 2011

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগের প্রয়োজন নেই

 

২৭ জুলাই ২০১১

আমরা প্রায়ই পত্র-পত্রিকায় বিদেশী মন্ত্রী অথবা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের পদত্যাগের খবর পড়ি। বাংলাদেশেও কালেভদ্রে এ ধরনের খবর পাওয়া যায়। তবে সেটা হয়, “রাষ্ট্রপতি/প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে পদত্যাগ” জাতীয় খবর। বাংলাদেশের মন্ত্রী এবং অন্যান্য দায়িত্বশীলদের পদত্যাগ না করার ফলে প্রমাণিত হয়, বাংলাদেশের স্ব স্ব দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ যথেষ্ট সফল। প্রশাসনিক দায়িত্বের এতো বিরাট সফলতা বিশ্বের আর কোন দেশে নেই। যে দেশে মন্ত্রীদের পদত্যাগের হার যত বেশি সে দেশের মন্ত্রীরা ততো বেশি ব্যর্থ। সে হিসেবে বলা চলে ইউরোপের দেশগুলো অনেকটাই ব্যর্থ রাষ্ট্র। অথচ দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওরা আমাদের চেয়ে ধনী এবং সভ্য।

দেশের মানুষ ফাইলবন্দী আইনগুলোকে এখন হাতে তুলে নিচ্ছে। প্রায়ই ওরা হুশে বেহুশে অল্প অল্প করে মানুষ মারছে। সম্প্রতি আদমশুমারীতে দেশের জনসংখ্যা অস্বাভাবিক কম দেখানো হয়। এ নিয়ে সমালোচনায় পড়ে সরকার। পুনরায় শুমারী চালিয়ে যাওয়া অর্থ অপচয়ের নামান্তর। সেক্ষেত্রে বাড়তি জনসংখ্যা কমিয়ে ফেলা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। দেশের জনসংখ্যা বেড়েছে জনগণের কারণে। কনডম কিনতে অনীহা দেখিয়ে মাছের পোনার মতো মানুষ বানিয়েছে, এখন এসব মাছের পোনা ধ্বংসের দায়িত্বও দেশের জনগণকেই নিতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতোমধ্যে দেশের মানুষকে আন্তরিক ধন্যবাদ দিয়েছেন। সম্প্রতি চালকের ভুলে মিরসরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনা, আমিন বাজারে গনহত্যা এবং সর্বশেষ নোয়াখালীতে গণপিটুনি দিয়ে দেশের জনগণ তাদের দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতার প্রমাণ রেখেছে। এভাবে চলতে থাকলে এ সরকারের আমলেই দেশের জনসংখ্যা ৭ কোটিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে। ৭২ এর সংবিধানের মতো আমরা ৭২ এর জনসংখ্যায়ও পৌঁছে যেতে পারবো।

অর্থমন্ত্রী সম্প্রতি দ্রব্যমূল্যের বিষয়ে জনগণকে বাজার বিরতিতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, একদিন বাজার বয়কট করলে ব্যবসায়ীরা দাম কমাতে বাধ্য হবে। তিনি আরো বলেন, “ব্যবসায়ীদের সাথে সরাসরি জনগণের সম্পর্ক। সরবরাহকারী এবং ভোক্তার মাঝখানে বসে একজন অর্থমন্ত্রী হিসেবে গুপ্তকেশ পরিচর্যা ছাড়া আমার আর কোন কাজ নেই।” জনগণকে সচেতন করার জন্য একজন মন্ত্রীর এমন আন্তরিকতার নজির স্বয়ং পাকিস্তানের মতো প্রগতিশীল রাষ্ট্রেও নেই। শেয়ার বাজার ইস্যুতেও জনগণ চাইলে মাঠে নামতে পারে। অর্থমন্ত্রী যখন নিজের গুপ্তকেশ নিয়ে বেশি ব্যস্ত, জনগণ তখন দরবেশ সাহেবদের প্রকাশ্যকেশগুলো উচ্ছেদ করতে পারে। অবশ্য দেশের দরবেশরা গালের উপর বালের খামার করে আল্লাহর নামে রিজিকের বরকত করে যাবেন, এখানে ঈর্ষান্বিত না হলেও চলে। সৃষ্টিকর্তা কখন কোথায় কার রিজিকের ব্যবস্থা করে রেখেছেন, তা একমাত্র তিনিই ভালো জানেন।

সরকার ধীরে ধীরে গণমূখী হচ্ছে। দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণের উপর নির্ভর করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন। দ্রব্যমূল্য কমানোর জন্যও অর্থমন্ত্রী নির্ভর করছেন জনগণের উপর। জনগণের খানসামা আয়া’রা জনগণের উপর নির্ভর করছে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় এরচেয়ে সুখবর আর কিছুই হতে পারে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্ভরতার প্রতি সম্মান দেখিয়ে জনগণ খুব মনযোগের সহিত মানুষ হত্যায় মগ্ন হয়েছে। ঠিক একইভাবে অর্থমন্ত্রীর আহবানে সাড়া দিয়ে এদেশের মানুষ না খেয়ে না দেয়ে সময় করে একদিন রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চেয়ে যেদিকে দু’চোখ যায়, সেদিকে চলে যাবে।

পরিশেষে এ কথা বলা যায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগের প্রয়োজন নেই।

June 10, 2011

নোবেল পেতে পারেন শেখ হাসিনা

মন্তব্য প্রতিবেদন

শান্তি বিষয়টাকে অনেকে কবুতরের সাথে গুলিয়ে ফেলেন। সবাই ভাবে, যে দেশে কবুতর উড়ে, সে দেশে শান্তির চুম্বনে লালার বন্যায় সব অশান্তি ভেসে যাচ্ছে। আসলে শান্তির রূপের গহিনে প্রবেশ বেশ সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। মনে করেন কেউ আপনাকে ধর্ষন করতে চাচ্ছে। ধস্তাধস্তিতে না গিয়ে চুপচাপ শুয়ে পড়ে তাকে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্ষণকার্য চালিয়ে যাবার সুযোগ করে দেয়াও শান্তির পক্ষে কাজ। এর জন্য আপনি নোবেলও পেতে পারেন। সে হিসেবে কখনো যোগ্য মনোনয়নের অভাবে নোবেলকে বিলুপ্ত ঘোষনার প্রয়োজন পড়বে না। বাংলাদেশের ষোলকোটি জনগনের একেকজনকে শান্তিতে নোবেল দিতে গেলেইতো নোবেলের ষোলকোটি বছর কেটে যাবে। চুপচাপ শুয়ে থেকে শান্তিপূর্ণভাবে বালাৎকার হওয়ার এমন উৎকৃষ্ট উদাহরণ আর কোথাও পাবেন না।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে শেখ হাসিনার এখন পর্যন্ত ভূমিকা বেশ চমকপ্রদ। একদা বিএনপির সাথে ভাগাভাগি করে জনগনকে আকাম করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্ম দেয়ার কাজে জোরালো ভূমিকা রেখেছেন। এখন আবার কোন রাখঢাক না রেখেই ধর্ষনের যৌথ খামার করার জন্য খালেদাকে সমঝোতায় ডাকছেন। ডাকার স্টাইলটাও চমতকার।

ড. ইউনূসকে হেনস্থার পর ‘হাসিনা কেন নোবেল পাবে না’ পারলে এই মর্মে হাইকোর্টকে দিয়ে রুল জারি করতো হাসিনার আশেপাশে থাকা কুলাংগাররা। অ্যার্টনী জেনারেল যেভাবে নগ্ন পন্থায় ইউনূসের নোবেল কেড়ে নিতে গিয়ে শেখ হাসিনা এবং সন্তু লারমাকে নোবেল পাইয়ে দিতে চেয়েছেন, তা সত্যিকারর্থে খুব যুতসই দালালী হয়েছে। আমরা বিমুগ্ধ ভদ্রলোকের এমন পারফরম্যান্সে। সর্বশেষ খবর হচ্ছে শেখ হাসিনার পক্ষে নোবেল লবিং করতে ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা পশ্চিমা রাষ্ট্রসমূহ সফরে বের হয়েছেন। শুরুতেই আছেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে গিয়ে শেখ হাসিনা কেন নোবলে পাবেন, এটার স্বপক্ষে বাংলাদেশী স্টাইলে বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে বেড়াবেন উনারা। এতে করে পশ্চিমাদের হিউমার স্টপগ্যাপে যথার্থ যোগান স্বরূপ নি:সৃত দোয়ায় দেশের ভাবমূতি কিছুটা বৃদ্ধি পেলে মন্দ কি!

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইস্যুতে শেখ হাসিনা অবশ্যই নোবেল পেতে পারেন। প্রয়োজন কেবল একটা সংযুক্তি। শেখ হাসিনা বললেন, ‘আমাদেরকে অপমান করার সুযোগ তাদেরকে কেন দেবো?’ নিজেদের মান বাঁচানোর জন্যই এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রথা বাতিল করতে হচ্ছে। অথচ মূলা কিন্তু গণতন্ত্র! পুরো বিষয়টা এরকম- উনাদেরকে জনগণ অপমান করতে পারবে না, তত্ত্বাবধায়করাও পারবেন না। উনারা অপমানের উর্দ্ধে। একেজন চ্যাটের বাল খ্যাতা কাটা!

জনগণতো অপমান করার স্পর্ধাই রাখে না, এখন তত্ত্বাবধায়কদের স্পর্ধাও রহিত হলো। সব মিলিয়ে বিরোধীদলকে আমন্ত্রন জানিয়েছেন শান্তিপূর্ণ লুটপাটের। অতীতে দেখেছি শান্তিপূর্ণ লুটপাটেও আহসান উল্লাহ মাস্টার, কিবরিয়া’র মতো নেতাদের রক্তে বেশ অশান্তির সূত্রপাত ঘটেছিলো। এ যায়গাটাতে যদি হাসিনা কাজ করতে পারেন, তবে রক্তারক্তিহীন তৎপরতায় দেশের পশ্চাতদেশ মারার ব্যবস্থা করার জন্য শেখ হাসিনা নোবেল পেতেই পারেন। এটা যৌক্তিক দাবি।

এখন খালেদার মতো বেয়াক্কেল যদি শান্তির পক্ষে অবস্থান নেয়, তাতেই হলো। কিন্তু খালেদা মনে হয় হাসিনাকে নোবেল পাইয়ে দিতে আন্তরিক হবেন না। খালেদার এ অবস্থানও যৌক্তিক। কারণ নোবেল লবিং টিমে হাসিনা চাইলেই এ্যানি, পিন্টুর মতো লোকদেরও ঢুকিয়ে দিতে পারতেন। এতে করে দু’জনেরই নোবেল প্রাপ্তি নিশ্চিত হতো। এখন হাসিনা যদি নোবেল পেয়েও যান, তবে বৈষম্যের অভিযোগ এনে ভবিষ্যতে খালেদার অ্যার্টনী জেনারেলও নানান বক্তব্য দিতে পারেন। এমনকি নোবেল কেড়েও নিতে পারেন অথবা ভাগও বসাতে পারেন।

সবকিছু অবশ্য কবুতর উড়ানোর উপর নির্ভর করছে। এদেশে জিয়াউর রহমান কবুতর উড়িয়েছেন, এরশাদও উড়িয়েছেন। এমনকি নিজামীও! জাতীয় পতাকার সামনে থেকেই উড়িয়েছেন। এতো শান্তি যে দেশে, সে দেশের প্রধানমন্ত্রী নোবেল না পেলে আলফ্রেড নোবেলের আত্মা কখনো শান্তি পাবে না।

%d bloggers like this: