Archive for ‘ছাগস্টাইল’

December 22, 2011

বিয়েতে নারীর অনাগ্রহ যে কারণে

সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় ‘বিয়ে’ একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। পরবর্তী প্রজন্মের ধারা অব্যাহত রাখতে বড় ভূমিকা রাখে বিয়ে। সমাজের অন্য নিয়মের মতো বিয়েকেও একটা নিয়মের মধ্যেই ধরা হয়। এটা ধর্মীয় ব্যাপারও বটে। বিয়ে না করলে মানুষকে চিরকুমার অথবা চিরকুমারী বলা হয়। আর বিয়ে করলে বিবাহিত বলা হয়। নারীরা বিয়ে বসে এবং পুরুষেরা বিয়ে করে।

কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের অনেক নারী বিয়ের কথা শুনলেই নাক সিটকান। তাঁরা থাকতে চান একাকী। এ ব্যাপারে তাঁদের ভাবনা হলো, বিয়ে পেশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক, থাকতে হয় অনুগত ও ঘরকুনো হয়ে এবং সর্বোপরি ব্যাহত হয় স্বাধীনতা। আবার উল্টো চিত্রও কিন্তু আছে। কোনো কোনো নারী কিন্তু আবার বিয়ের জন্য পাগলও।

কেন বিয়ে করবেন করছেন না, এ প্রশ্নের উত্তরে অনেক নারী বলেছেন—বিয়ে করলে সংসারে পুরুষের অনুগত হয়ে থাকতে হয়। তাই স্বাধীনচেতা নারীর জন্য বিয়ে নয়। এই নারীরা বাইরের জগতে যেতে চান এবং নতুন নতুন কাজের সুযোগ খুঁজে নিতে চান। তাঁরা ঘরকুনো হয়ে থাকতে চান না। তাই তাঁরা বিয়েও করতে চান না।

কিন্তু নববধূ মল্লিকা জেইন বিয়ের ব্যাপারে কখনই নার্ভাস ছিলেন না এবং এ নিয়ে কখনই দ্বিধার মধ্যেও ছিলেন না। তিনি বলেন, ‘এলেক্সা র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকার জন্য দৈনিক প্রথম আলো এ ধরনের নিউজ করে থাকে। এটি দোষের কিছু নয়।’ তাঁর অনেক বন্ধু বিয়ের বিরোধী এবং স্বাধীনভাবে থাকতে চান। বন্ধুদের উদ্দেশে মল্লিকা বলেন, ‘এলেক্সা র‌্যাংকিং বংশ বৃদ্ধিতে কোন প্রভাব ফেলে না। এমনকি যৌন সম্পর্কেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় না। প্রথম আলোর এলেক্সা র‌্যাংকিং একবার দেখে নিও।’

এ প্রসঙ্গে মনস্তাত্ত্বিক গবেষক নিরাল শাহ বলেন, চারপাশে অহরহ বিয়ে বিচ্ছেদ দেখে অনেক নারী বিয়েতে অনাগ্রহ দেখান। আবার কোনো কোনো নারী সংসার বা সন্তানের দায়িত্ব নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘তবে প্রচলিত একটা ধারণা আছে যে দৈনিক প্রথম আলো আমেরিকার দালালি করে। দূর্ভাগ্যজনক হলেও এটাই সত্যি।’

২৩ বছর বয়সী অঞ্চনা দামোধরন কাজ করেন একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায়। তিনি তাঁর কাজ ও পেশাকে ভালোবাসেন এবং সৃজনশীলতা দিয়ে তিনি এগিয়ে যেতে চান। বিয়ের ব্যাপারে অঞ্চনার মতো হলো, ‘এটা সময়, শক্তি ও অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।’ তিনি আরও বলেন, যদি প্রথম আলো পড়তেই হয়, তাহলে বিয়ে না করেই পড়বো। সূত্র – ওয়েবসাইট।

December 9, 2011

লাইফস্টাইল টিপস :: যেভাবে হবেন একজন সচেতন নাগরিক

একজন সচেতন নাগরিক

আমাদের প্রত্যেকের উচিত একজন সচেতন নাগরিক হওয়া। কিন্তু ঠিক কিভাবে সচেতন নাগরিক হতে হয়, এটা আমরা অনেকেই জানি না। এ বিষয়ে মো: সুপ্রভাত সাঈদী’র গ্রন্থনায় আমাদের আজকের বিশেষ টিপস :: যেভাবে হবেন একজন সচেতন নাগরিক :

স্বাধীনতা যুদ্ধে এ দেশের মানুষের বিপক্ষে অবস্থানকারীদের জন্য হৃদয়ের ভেতরে সফট কর্ণার থাকতে হবে। বলতে হবে “ওরা একাত্তরে ভুল করলেও এখন ওদের চেয়ে দেশপ্রেমিক আর নেই।”

প্রবীণদের জন্য সীমাহীন ভালোবাসা থাকতে হবে। মাত্রাটা জেনে নিন- ঠিক যতটুকু ভালোবাসা থাকলে গোলাম আজম, নিজামী, মুজাহিদ, সাঈদীদের ফাঁসি নিয়ে আপনি মানবাতাবাদী হতে পারেন, ঠিক ততটুকু। বলতে হবে “যৌবনের ভুলের কারণে এ বৃদ্ধ মানুষগুলোর উপর অত্যাচার না করলেই নয়!”

স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের বিপক্ষে অংশ নেয়া পাকসেনাদের মধ্যে কেউ ভালো ছিলো কিনা, এটার খোঁজ নিতে হবে। এবং অবশ্যই মেহেরজান সিনেমাকে একটি সাহসী সিনেমা বলে সমর্থন করতে হবে। জোর গলায় বলতে হবে “আমরা সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলতে পারি!”

বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের ক্রিকেট ম্যাচে পাকিস্তানের সাপোর্ট করতে হবে। এটা নিয়ে কেউ কিছু বলতে গেলে একটু পিছলামি করে “আরে ভাই, সাপোর্টের কি আছে। বড় ভাইদের সাথে ছোট ভাইদের খেলা হচ্ছে। ভাইয়ে ভাইয়ে যুদ্ধ হয় নাকি!” এসময় নিজের মা এবং বোনের যৌনাঙ্গ বন্ধক রাখতে হবে। কারণ মুক্তিযুদ্ধের সময় কথিত বড় ভাইয়েরা আমাদের মা বোনদের পা ছুঁয়ে সালাম করেছে এবং তাদের জানমালের নিরাপত্তা দিয়েছে।

বাংলাদেশ ভারত ক্রিকেট ম্যাচে ভারতকে সাপোর্ট করতে হবে। কেউ পুটকীর উপর লাত্থি মারলে বলতে হবে, “আরে ভাই মনের কষ্ট থেকে দেশের টীমের বিরোধিতা করি। আজ এতোদিন হয়ে গেলো আমরা বিশ্বকাপ জিততে পারি নাই!”

ইভ টিজিংয়ের জন্য মেয়েদের দায়ী করতে হবে। একটি ছেলে নিজের পছন্দমতো বাহারি ঢঙয়ের পোষাক পরে ঘুরতে পারলেও একটি মেয়ে বোরকা ছাড়া ঘুরতে পারবে না। পুরুষের চরিত্র ঠিক রাখার দায়িত্ব নারীর হাতে তুলে দিতে হবে। বলতে হবে “মেয়েগুলো নষ্ট। ওদের উঁচা বুক দেখলে আমি স্থির থাকতে পারি না। ঝরে যায়!”

নিজের মা এবং বোনকে ঈশ্বরের আসনে বসিয়ে নিয়ে পূজো করতে হবে। পাশাপাশি বলতে হবে “নারীরা সব নষ্টের মূল। একজন পুরুষের জীবন ধ্বংসের জন্য নারীই যথেষ্ট।” নিজের বোনের যেকোন অপকর্মকে ভুল হিসেবে মেনে নিয়ে ধামাচাপা দিতে হবে। অন্যের বোনের যেকোন ভুলকে অপকর্ম বানিয়ে তাকে দোররা মারতে হবে।

একজন পুরুষ হিসেবে বাজারে আসা সর্বশেষ দেশী গার্ল হিডেন ক্যাম ভিডিওর খোঁজ খবর রাখতে হবে। ভিডিও দেখতে দেখতে হস্তমৈথুন করতে হবে এবং বলতে হবে “ধুর মাগী!” তারপর সে ভিডিও নিয়ে ব্লগে ফেসবুকে লিখতে হবে, পাশাপাশি নারী সমাজের চৌদ্দগোষ্ঠী ধরে গাইল দিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রুমানার স্বামীর মৃত্যুর পর তার পক্ষে মানবতাবোধ জাগিয়ে তুলতে হবে। তার আগে পুরো ঘটনায় রুমানাই দায়ী- এর স্বপক্ষে কারণ খুঁজতে হবে। বলতে হবে “নিশ্চয় রুমানা পরকীয়া করতো, নইলে একজন পুরুষ কখনোই এতো হিংস্র হতে পারে না!”

মীরসরাই সড়ক দূর্ঘটনার জন্য দায়ী ট্রাকের হেলপারের ৫ বছর কারাদন্ডের পর তার পক্ষে দু’চারটে কথা ব্লগে ফেসবুকে লিখতে হবে। বলতে হবে এ দরিদ্র মানুষটির যদি আইনজীবি থাকতো, তাহলে হয়তো বিচারটা সুষ্ঠু হতো। তার পরিবার এখন কী করবে! এমন ভাবনার সময় আশেপাশে ভিক্ষুক থাকলে ২ টাকা দান করে আত্মার প্রশান্তি নিতে হবে।

আপনি যদি স্টুডেন্ট হয়ে থাকেন, তবে অবশ্যই বাসে হাফভাড়া দিবেন। এমনকি ডেটিং করতে যাওয়ার সময়ও। ২ টাকা ভাড়ার জন্য ঘন্টাখানেক সময় ঝগড়া করতে হবে। এবং নিজের স্টুডেন্ট আইডেন্টিটি সবসময় কাউকে ২ টাকা কম দেয়ার কাজে ব্যবহার করতে হবে।

প্রতিদিন কয়েকবার ঢাকা শহরকে গালি দিতে হবে। শুধু গালি দিলেই চলবে না, প্রতি মাসে মামাতো ভাই, খালাতো ভাই, পাড়াতো ভাইদের ঢাকায় আমদানি করতে হবে। বলতে হবে, “ওহরে… তোরাতো গ্রামে থেকে পঁচে যাবি। ঢাকায় চলে আয়, লাইফ চেঞ্জ হয়ে যাবে।”

ঘন্টাখানেক বাসের অপেক্ষায় থেকে বাসে উঠে দাঁড়িয়ে থাকবেন। কোনমতে দাঁড়ানো হয়ে গেলেই চেঁচিয়ে উঠবেন, “ওই হালারপো, আর কতক্ষণ খাড়ায়া থাকবি, বাস ছাড়!” আপনার মতো আরো অনেকেই বাসের অপেক্ষায় আছে, সেটা ভুলে যান। পারলেতো দাঁড় করিয়ে লোক নিচ্ছে কেন, এটা নিয়েও দু’চারটে বকা ছেড়ে দিন। আপনিতো শুয়ে শুয়েই যাচ্ছেন!

(চলবে)

December 6, 2011

টিপস :: যেভাবে হবেন একজন ভারত বিরোধী

ভারতীয় শাড়ি পরিহিতা একজন ভারত বিরোধী

গ্রন্থনা : মজিদ হাশমী

সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই দাঁত ব্রাশ করবেন। ব্রাশটা হাতে নিয়ে ক্লোজআপ অথবা কোলগেট টুথপেস্টের চিপি খুলে প্রয়োজন মতো পেস্ট মেখে নিবেন। এবার হাঁটতে হাঁটতে আবার বেডরুমে যাবেন। কম্পিউটারে মিডিয়া প্লেয়ার ওপেন করে ফুল ভলিউমে তেরি মেরি গানটা ছেড়ে দিবেন।

গুন গুন করতে করতে বাথরুমে ঢুকুন। শরীরটা কিছুক্ষণ ভিজিয়ে স্ট্রবেরি ফ্লেভারড লাক্স সাবান গায়ে মাখুন। মাথায় মাখুন অলক্লীয়ার শ্যাম্পু। গোসল করে বেরিয়ে এসে একটি ভালো টাওয়েল দিয়ে শরীরটা মুছে ফেলুন। এরপর পুরো গায়ে পন্ডস বডি লোশন মাখুন। গায়ে জড়িয়ে নিন রূপা গেঞ্জি, আন্ডারওয়ার। জামা পরা শেষ হলে একটি ভারতীয় পারফিউম বগলের নীচে স্প্রে করে নিন।

সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আইপডে এ আর রহমানের হিন্দি গান ছেড়ে দিয়ে হেডফোনটা কানে লাগান। পার্কিং থেকে হিরো হোন্ডাটা বের করে চলে যান গন্তব্যে।

সারাদিন কাজকর্ম সেরে সন্ধ্যায় বন্ধুদের আড্ডায় বসে বডিগার্ড এবং রা ওয়ান নিয়ে বিতর্ক সেরে নিন। বেশিক্ষণ থাকবেন না যেন। টিপাইমুখে বাঁধ নিয়ে ব্লগ এবং ফেসবুক ভীষণ উত্তপ্ত। বাসায় ফিরেই গ্যাজাতে হবে যে!

বাসায় ফিরে চাইলে একবার পরিবারের সাথে বসে জি সিনেমায় রাণী মুখার্জির মুভিটা কিছুক্ষণ দেখতে পারেন। ফ্রেশ হয়ে কিছু মুখে দিয়ে কম্পিউটারের সামনে চলে আসুন।

“দেখুন না, আজও সীমান্তে একজনকে মেরে ফেলেছে বিএসএফ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধেও এতো মানুষ মারা যায়নি, বর্তমান সরকারের আমলে বিএসএফের হাতে যত মানুষ মারা গেছে।” নিশ্চয় ফেসবুকে এ স্টাটাসটাই দিলেন? এবার আরো লিখুন “আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ করে ভারতীয় দালালদের এ বাংলার মাটিতে পুঁতে ফেলা হবে।”

কাইন্ডলি এবার একটু ব্লগে যাবেন। টিপাইমুখে বাঁধ নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে একজনে একটা পোস্ট দিয়েছে। সেখানে গিয়ে কমেন্ট করুন “আবারো বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় আসা প্রয়োজন। ভারতের পা চাটা কুত্তা, দালালদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে।”

এরপর দেখবেন জামায়াতকে ক্ষমতায় আশা করার জন্য কেউ এসে আপনাকে ছাগু বলবে। আপনি তাকে ভাদা (ভারতীয় দালাল) বলুন।

এভাবে নিজেকে বদলে ফেলতে পারেন। জীবনে আনতে পারেন গতি। তার জন্য প্রয়োজন এক কাপ লিপটন তাজা তরল শান্তি। আহ!

%d bloggers like this: