Archive for ‘কাঠাল পাতা’

February 15, 2012

পদ্মা সেতু নিয়ে মুখ খুললেন হিমু

মগবাজার ডেস্ক

অবশেষে পদ্মা সেতু নিয়ে মুখ না খুলে থাকতে পারলেন না হিমু। এর আগে সৈয়দ আবুলের সময়ে একবার মুখ খুলতে গেলে জোবেদা খালা তার মুখ চেপে ধরেন। আজ পদ্মা সেতু নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আচমকা সে মুখ খুলে ফেলেন হিমু।

রাজধানীর একটি হোটেলে বিএনপির নেতা-কর্মীদের এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় মির্জা ফখরুল বলেন, “শেয়ার বাজার থেকে লুট হওয়া টাকা সরকার দুবাই পাঠিয়ে দিয়েছে। এখন মালয়শিয়াকে দিয়ে সে টাকা দুবাই থেকে এনে পদ্মা সেতুতে কাজে লাগানো হবে।” হিমু তখন চায়ে ভাপা পিঠা চুবিয়ে খেতে খেতে টিভি দেখছিলেন। মির্জা ফখরুলের কথা শুনেই ফোন করেন দৈনিক মগবাজারে।

হিমু বলেন, “মির্জা ফখরুল একটা বাটপার। বাটপার মানুষরা থেমে থেমে কথা বলে। জিয়াউর রহমান থেমে কথা বলতো। তারেক রহমান, খালেদা আজমও থেমে কথা বলে। মির্জা ফখরুলও জিয়া পরিবারের সদস্য। আয়াম ড্যাম শিওর, মির্জা তার পেগ লিমিট ক্রস করেছে। লিমিট ক্রস করলে বাটপাররা কথা উল্টো করে বলে। আসলে কোকোর পাচার করা টাকা মালয়শিয়া বিনিয়োগ করে ফেলছে কিনা, তা নিয়ে কোন ক্যারফা লেগেছে।” ক্যারফা মানে গিট্টু, যোগ করেন তিনি।

হিমু প্রায় চেঁচিয়ে আরো কয়েকটি দেশের নাম লিখে রাখতে বলেন। তিনি বলেন “সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, মালয়শিয়া, যুক্তরায্য যদি পদ্মা সেতুতে বিনিয়োগ করে তাহলে বিএনপি তার বিরোধিতা করবে। মির্জা, চৌধুরী, খান এরা সবাই বাংলা সিনেমার ভিলেন। এদেরকে বিশ্বাস করবেন না। এরা খালি খায় আর হাগে। হাগতে বসে টাকার গন্ধ শোঁকে।”

পদ্মা সেতু নিয়ে কথা শেষ হলে হিমু নিজের কথা বলতে শুরু করেন। এ সময় নিজেকে রাজনীতির বাইরে নয় উল্লেখ করে হিমু বলেন, “আমি সুপার হিরো হতে চাই না। সুপার হিরো হতে হলে ক্যান্সার হতে হয়। ক্যান্সার খুব অপছন্দের জিনিস। ক্যান্সার হলে মানুষ প্রচুর ফাউল টক করে।” পদ্মা সেতু নিয়ে আলটিমেটামও দিয়েছেন হিমু। তিনি জানিয়েছেন, “যতদিন পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হবে না, ততদিন পর্যন্ত হলুদ জাঙ্গিয়া পরে ঘুরবো। তবে জাঙ্গিয়া প্যান্টের ভেতরে পরবো, উপরে নয়। সুপারম্যান হওয়ার কোন ইচ্ছে আমার নেই।”

January 31, 2012

বিগত যৌবন যার, ভাঁড়ামোর শ্রেষ্ঠ সময় তার – হুমায়ুন আহমেদ

সুপারহিরো হুমায়ুন আহমেদ

নিউইয়র্ক প্রতিনিধি

বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক, আন্তর্জাতিক সুপার হিরো সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান, সুপারম্যানের জমজ ভাই, ব্যাটম্যানের খালাতো ভাই এবং স্পাইডারম্যানে দুলাভাই হুমায়ুন আহমেদ ওরফে হুম্যান বলেছেন “বিগত যৌবন যার, ভাঁড়ামোর শ্রেষ্ঠ সময় তার।”

বিশ্বের একমাত্র অমূর্খ প্রেমিক পুরুষ হুম্যান এক সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন। সুপারম্যান, নাফরম্যান, ব্যাটম্যান, হুম্যান, স্পাইডারম্যান – এরা সবাই এক কাতারের মানুষ। বলেছেন এ বিদগ্ধ সাহিত্য বিশারদ।

এসময় তিনি বলেন, “আমাদের সবাইকে বয়সভিত্তিক আচরণ করতে হবে। শিশুকালে ফিডার খেতে হবে, যৌবনে লুচ্চামি করতে হবে এবং বৃদ্ধকালে ধর্মকর্ম করতে হবে। এটা হচ্ছে মানবজীবনের শ্রেষ্ঠ বিধান।” জামায়াতের সহিত এ বিধান কায়েম করার জন্য ভক্ত আশেকানদের প্রতি আহবান জানান তিনি।

কিছুদিন আগে গুগলে বাংলায় সুপারহিরো লিখে সার্চ করলে একটি মাত্র রেজাল্ট আসে। এসময় তিনি হতাশায় ভেঙ্গে পড়েন। কোমরে পাওয়ার না থাকায় তিনি হাঁটু বরাবর ভাঙ্গেন। সার্চ রেজাল্টে গুগল জানায় বঙ্গবন্ধু অল্পের জন্য সুপারহিরো হতে পারেননি। যদি তিনি রাজনীতি না করতেন, তাহলে সুপারহিরো হয়ে যেতেন। অথবা বঙ্গবন্ধুর বাড়ি গোপালগঞ্জে না হয়ে আমেরিকায় হলেও চলতো। কিন্তু বিধির বিধান বাংলাদেশে একমাত্র হুম্যান ছাড়া আর কোন সুপার হিরো থাকবে না। কখনো ছিলোও না। এখনো নেই।

আলাপের এক পর্যায়ে তিনি আবারো সবাইকে সুপারহিরো হওয়ার প্রতি জোর দেন। হুম্যান বলেন, “প্রথমে গোসল করতে হবে, এরপর গামছা দিয়ে গায়ের পানি মুছতে হবে। পরে যত্ন করে প্যান্ট পরতে হবে। জিপার না লাগালেও চলবে। প্যান্টের উপর একটা পিংক কালারের জাঙ্গিয়া পরে নিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে জাঙ্গিয়া যেনো প্যান্টের উপরে থাকে। এরপর আমরা সবাই সুপারম্যান হয়ে যাবো। এটা হচ্ছে সুপারহিরো হওয়ার সহজ তরিকা!”

বাংলাদেশের খান বংশের সাথেও তার ভালো সম্পর্ক। তিনি বলেন, “এদেশের জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খান, জনপ্রিয় গায়ক হৃদয় খান, জনপ্রিয় ঔপন্যানিসক হুমায়ুন আহমেদ খান এবং জনপ্রিয় সুপারহিরো হুম্যান খান। আমরা সবাই খান বংশের লোক।”

বাংলাদেশের অপর জীবন্ত কিংবদন্তি ইমদাদুল হক মিলন সম্পর্কে সুপারহিরো হুম্যান বলেন, “প্রথমত সে সুপার হিরো নয়। দ্বিতীয়ত তার প্রেমে ভুল আছে। তাই তসলিমার উপন্যাসে তার নাম এসেছে। আমার প্রেমে কোন ভুল নেই। আমি যা করার দোয়া দুরুদ পড়ে করেছি। আমার নাম কোন সুন্দরী নারীর উপন্যাসে আসবে না।”

January 15, 2012

ইমদাদুল হক মিলন দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করেন না!

মোহাম্মদ ইমদাদুল হক মিলনপুরী

মো: বসুন্ধরা গ্রুপ প্রতিনিধি

দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকার সম্পাদক বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক মোহাম্মদ ইমদাদুল হক মিলনপুরী কখনো দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করেন না। এমনকি তিনি পশ্চিম দিকে ফিরেও এ কাজ করেন না। কখনো যদি বাধ্য হয়ে পশ্চিম দিকে ফিরে বসতে হয়, তখন তিনি প্রস্রাবের কাঠিটি দক্ষিণ দিকে ঘুরিয়ে নেন। আজ সকাল ১০ টায় তিনি একবার প্রস্রাব করেন। সন্ধ্যায় আবার করবেন।

মোহাম্মদ ইমদাদুল হক মিলনপুরী জানান, “প্রথম আলোর সম্পাদক ভালো না। সে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করে এবং সোবহানের পুটকী মারে। মতির অনেক দোষ, বলে শেষ করা যাবে না।” এছাড়াও প্রস্রাবের দিক নির্ণয় বিষয়ে তিনি এ প্রতিবেদকের সাথে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন। এক পর্যায়ে মোহাম্মদ ইমদাদুলকে প্রশ্ন করা হয় ‘এখনতো বিপদে পড়ে পশ্চিমমূখী হয়ে প্রস্রাব করতে হলেও প্রস্রাবের কাঠিটি দক্ষিণ দিকে ঘুরিয়ে নেন। এক্ষেত্রে মহিলাদের জন্য আপনার ফতোয়া কী? আপনি মহিলা হলে কী করতেন?’ জবাবে মিলন বলেন, “আমি তখন পোর্ট্যাবল প্রস্রাবখানা ব্যবহার করতাম।”

এদিকে গতকাল বিকেলে মোহাম্মদ ইমদাদুল হক মিলনপুরী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ২৩ জন উটপাখিকে আসামী করে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, “উটপাখি মাথা নিচু করে মুসলমানদের সিজদাকে অপমান করে। এতে করে বাদীর ধর্মানুভূতি, যৌন অনুভূতিতে আঘাত লাগে।” পরিবারের বাকিদেরও একই অবস্থা কি না, এ বিষয়ে বিবরণে কিছু উল্লেখ নাই।

পরে আসামী উটপাখিকে নিয়ে বিজ্ঞাপন করার অভিযোগে প্রথম আলোর বিরুদ্ধেও সাধারণ ডায়েরী করেন মোহাম্মদ ইমদাদুল হক মিলনপুরীর স্ত্রী। দৈনিক প্রথম আলো উটপাখি নিয়ে বিজ্ঞাপন করার কারণে মিলনপত্নী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন।

January 9, 2012

মা হাসিনার কাছে ছাত্রলীগের চিঠি

মাগো, ওরা বলে রামদা চাপাতি কেড়ে নেবে। সোনার বাংলায় দাবড়ে বেড়াতে দেবে না। বলো মা, তাই কি হয়? তাইতো আমাদের বিষ উঠেছে। বিষ নামিয়ে পাকা কলার কলজে ভেঙে, তের হাজার বৈরাগীর কেশ ছিঁড়ে তবেই না গর্তে ঢুকবো। দস্যি মা, রাগ ক’রো না। মাত্রতো আর ক’টা মাস।

মাত্রতো আর ক’টা মাস। তারপর সোনার বাংলায় তেলাপোকা খুঁজে পাবে, চামচিকা খুঁজে পাবে, আমাদের আর পাবে না। মা বিশ্বাস করো এ দেশের মানুষ নষ্ট হয়ে গেছে, সবকিছু নষ্টদের অধিকারে চলে গেছে! শুনেছি ওরা আমাদের রেপ করতে দেবে না, টেন্ডারবাজি ভুলিয়ে দেবে। জগন্নাথের দুষ্টু ছেলেরা বলেছে বাপের নাম ভুলিয়ে কপালে কাকুর নাম টাঙিয়ে দেবে। তোমার বাবার নাম ভাঙিয়ে খেতে দেবে না।

মাগো, মনে অনেক কষ্ট। দু:খের শেষ নেই জাহাঙ্গীর নগরে। ওরা আমাদের ক্যাম্পাসে উঠতে দেবে না। বলো মা, কী করে মেনে নিই! তোমার দোয়ায় সকালে একটারে ফেলে দিয়েছি। নিশ্চয় শুনেছো এর আগে বুয়েটে, কুয়েটে দিয়েছি, অ্যাঁ… ইয়ে করে দিয়েছি! এখন ক্যাম্পাসে উঠলেই ওরা দৌড়ের উপ্রে রাখে।

এইতো মা, ধৈর্য্য ধরো। আবার দুয়েকটা দেবো ফেলে, তারপর তোমার জন্য হাসি নিয়ে তবেই না ঘরে ফিরবো। দস্যি মা, রাগ ক’রো না। মাত্রতো আর ক’টা মাস। তোমার মৃত্যু কামনা করে স্টাটাস দিতে দিবো না!

“পাগলা কুত্তা আমার।” মা পড়ে আর ভেটকি মারে, “তোদের ওপরে রাগ ক’রতে পারি!” এইতো সেদিন তোদেরকে সতর্ক করে পিঠ চাপড়ে দিয়ে, এটা-সেটা আর কত দোয়া করে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারি। আমার রাঙা-ভাঙ্গা ভুতু, আয় আয় তু তু!

December 24, 2011

ছোটগল্প – কালো ছাগলের ডিম

(১)

জানালা দিয়ে কুয়াশা দেখা যায়। কুয়াশার পর পেয়াজ রসুনের খেত। তার পরই মরিচ খেত। সেখানে উপছে পড়ছে শীতের কোমল কুয়াশা। উঠোনের কোণে খোয়াড়ের মুরগীগুলো এখনো বের হয়নি। কনকনে শীতের সকালে নাইবা বের হলো। কিন্তু ওয়ামী ভাবছে মুরগীগুলো আজ কয়টা ডিম পেড়েছে? এ শীতের সকালে পেয়াজ মরিচ দিয়ে ডিম ভাজি করে পান্তা দিয়ে খাওয়া ওয়ামীর পুরোনো অভ্যাস। একসময় পাখির ডিম বেশ ভালোবাসতো ওয়ামী। কিন্তু দিন দিন পাখিগুলোর ডিম ছোট হয়ে আসছে। মাকে বলে কিছুদিন আগে পাকিস্তানী মুরগী কিনেছিলো বলেইতো আজ বড় বড় ডিম খেতে পারছে।

অবসর সময়ে জানালা দিয়ে বসে বসে মুরগীগুলোর বিচরণ দেখা ওয়ামীর অন্যতম প্রিয় মূহুর্ত। ছোট পায়ে হেলে দুলে চলা মুরগীগুলোকে দেখলে সোনার বাংলার কথা মনে পড়ে যায়। সোনাকে আগুনে পুড়িয়ে উঠালে যে বর্ণ ধারণ করে, মুরগীগুলোর গায়ের রং সেরকম। এক স্বর্ণালী আভায় মাটির উঠোনটা নূরের মতো জ্বলে উঠে। ওয়ামীর আনন্দের শেষ নাই। জানালার গ্রীল বেয়ে সে নূর ওয়ামীর চোখ মুখ উচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে দিয়ে যায়।

ফোন বেজে উঠে ওয়ামীর। ও প্রান্ত থেকে প্রতিদিনের মতো আজও সে একই প্রশ্ন, “কয়টা পেড়েছে?” ওয়ামীর মনটা দুষ্টুমিতে ভরে উঠলো। “আমি কম্বলের নীচে। কিন্তু মনে হচ্ছে তোমার ঘাঁড় থেকে উম বেয়ে পড়ে আমাকে তাতিয়ে তুলছে। এখনো বিছানা ছাড়িনি। একটু পরই দেখবো কয়টা ডিম পেড়েছে। মা পেয়াজ, রসুন, মরিচ তুলতে গেছেন। চুলায় তেল গরম দিয়েছেন।”

(২)

ওয়ামী এখনো ডিম খায়নি শুনে তার একমাত্র প্রেমিকার মনে এক অচেনা বেদনার সুর অনুরনিত হলো। ক’দিন আগে আসমার জন্মদিন ছিলো। জন্মদিনে ওয়ামি তাকে একজোড়া পাকিস্তানী মুরগী উপহার দিয়েছিলো। এর আগের জন্মদিনে দিয়েছিলো পাকিস্তানী বোরকা। পাকিস্তানী বোরকা দেখতে সুন্দর। কোমরের দিকটা একেবারে শরীরের সাথে ফিটিং থাকে। ফিগারটা স্পষ্ট বুঝা যয়। বোরকা পরলেও একটি মেয়ের শরীর সম্পর্কে ধারণা নেয়া যায় খুব সহজে। পাকিস্তানী মুরগীর মতো পাকিস্তানী বোরকাও ওয়ামীর বেশ পছন্দের।

খোয়াড়ের দরজা খুলে হতাশায় ভেঙে পড়ে ওয়ামী। আজ মুরগীগুলো একটি ডিমও পাড়েনি। ভালো করে চেয়ে দেখলো মুরগীগুলোও নেই! বুকের বাম পাশে ব্যথা অনুভব করছে। অনেক জোরে মা’কে ডাকাডাকি করলেও মুখ দিয়ে শব্দ বেরুচ্ছে না। বড়শিতে ধরা মাছের মতো ঠোঁট দু’টো নাড়িয়েই যাচ্ছে, কোন শব্দ হচ্ছে না। পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে আসমাকে মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখলো, “Dim nai, Murgio nai!” মেসেজটি পাঠিয়ে দিয়েই খোয়াড়ের দরজার মুখে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গেলো ওয়ামী।

read more »

December 12, 2011

গোলাম আজমের কবিতা

কেউ কথা রাখেনি

কেউ কথা রাখেনি, চল্লিশ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখেনি
ছেলেবেলায় এক নূরানী সময়ে পাকি বাবারা বলেছিলো
তোকে পূর্বের রাজা বানিয়ে দিবো, আরামচে জর্দ্দা দিয়ে পান খাবি
তারপর কতদিন পান খেয়ে ঠোঁট লাল করিলাম, এক বিধবা ছাড়া আর কাউকে পেলাম না
সিংহাসনতো দূরের কথা।

পশ্চিমের জুলফিকার আলী ভুট্টো বলেছিল, বড় হও গোলামের বাচ্চা
পাছায় চর্বি জমিয়ে নাও- আমি দু’টা থাপ্পড় দিবো, একটু মলে দিবো
তুমিও রাজা হয়ে তোমার গেলমানদের একটু থাবড়ে দিও, মলে দিও !
জুলফিকার আলি, আমি আর কত বড় হবো ? আমার চারপাশে এখন শতশত ডিম
আর কতোটি ডিম তাড়া করলে তারপর তুমি আমায় সিংহাসনের পায়া দেখাবে ?

একটাও রয়্যাল ছাগু কিনতে পারিনি কখনো
কাঠি-লজেন্স দেখিয়ে দেখিয়ে পুটকী মেরেছে মেজর জিয়ার সেনারা
ভিখারীর মতন সৌদী বাদশাহর গেটে দাঁড়িয়ে দেখেছি ভেতরে গেলমানের নাচ
অবিরল রঙ্গের ধারার মধ্যে সোনার মতো ফর্সা বালকেরা কতরকম আমোদে হেসেছে
আমার দিকে তারা ফিরেও চায়নি !
নিজামী আমার কাঁধ ছুঁয়ে বলেছিলেন, দেইখ্যেন, একদিন আমরাও…
নিজামী এখন জেলে, আমাদের দেখা হয়নি অনেকদিন
সেই রয়্যাল ছাগু, সেই কাঠি-লজেন্স, সেই গেলমানের নাচ
খালেদা জিয়া ফিরিয়ে দেয় না !

হাতের মুঠে সুগন্ধি রুমাল রেখে খালেদা বলেছিল,
যেদিন মুক্তিযুদ্ধ ধুয়ে মুছে ফেলতে পারবে, সেদিন সত্যিকারের ভালবাসবে
আমার পাঞ্জাবীতেও এরকম আতরের গন্ধ হবে !
ভালবাসার জন্য আমি ফেয়ার এন্ড লাভলী মেখেছি
এখনো চুষে যাচ্ছি পাকিদের কাঠি লজেন্স
বিশ্ব সংসার তন্ন তন্ন করে খুঁজে এনেছি ডজন খানেক আইনজীবি
তবু কথা রাখেনি খালেদা, এখন তার মাথায় শুধুই তারেকের চিন্তা
এ যেন এক অচেনা নারী !
কেউ কথা রাখেনি, চল্লিশ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখেনি !

December 5, 2011

Man is Abul – মানুষ মাত্রই ভুল

মতামত ও বিশ্লেষন

ছোটবেলায় একটি কবিতা পড়েছিলাম “সড়ক দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার আবুল হাসে।” এ কবিতাটির কথা যতটুকু মনে আছে, তারচেয়ে বেশি মনে পড়ে একটি সিনেমার কথা “মেরামত করবি কিনা বল – Love me or kill me!” আমার সাহিত্যানুভূতি এবং সিনেমানুভূতিতে গভীর দাগ কেটে যাওয়া এ কবিতা এবং সিনেমার প্রসংগ এমনি এমনি আসেনি। দু’দিন ধরে আবুলের জন্য খুব টেনশন হচ্ছে। বলতে পারেন আমার আবুলানুভূতি বেশ জেগে উঠেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত এ যোগাযোগমন্ত্রী তার প্রিয় মন্ত্রনালয় হারাচ্ছেন।

আমার একমাত্র নিজস্ব পুত্রসন্তান ৬ মাসে পা দিয়েছে। খুব মনযোগ দিয়ে দেখলাম ছেলেটা কারণে অকারণে হাসে। মাঝে মাঝে আদর করে মাইর দিলেও হাসে। ধমক দিলেও হাসে। আমি আদর করে তাকে আবুল হোসেন নামে ডাকি। ডাক দিলে কোন কিছু না বুঝেই ছেলেটি হেসে দেয়। আমার ভীষণ আনন্দ। আমার সন্তান আমার আবুল হোসেন । সৈয়দ আবুল হোসেনও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সন্তানের মতো। প্রধানমন্ত্রীর সাথে এ যায়গায় আমার ভীষণ মিল। যতই অন্যায় করুক না কেন, কেউ কি নিজের সন্তানকে ফেলে দিতে পারে? আমার আবুল হোসেন প্রতিদিন কয়েকবার আমার কোলে হিসু করে দেয়, কই সৈয়দ আবুল হোসেনতো একবারও প্রধানমন্ত্রীর কোলে হিসু করে দেয়নি। তবুও আবুল তার মন্ত্রনালয় হারাচ্ছে। এটা বেশ দু:খজনক।

শোনা যাচ্ছে আবুলের মন্ত্রনালয় পাবেন নোয়াখালীর ওবায়দুল কাদের। নোয়াখালীও আমার খুব প্রিয় যায়গা। বাংলাদেশের প্রতি সেক্টরে একজন করে ‘বিখ্যাত’ খুঁজে পাবেন নোয়াখাইল্যা। এই যে ধরেন বিশ্বের অন্যতম সুন্দরী নেত্রী খালেদা জিয়া, বিশ্বখ্যাত ডিগবাজ শিল্পী মওদুদ আহমেদ, মইন ইউ আহমেদ সহ অগণিত মানুষজন নোয়াখাইল্যা। আমাদের লুংগি দা ওরফে ফরহাদ মজহারও নোয়াখাইল্যা। ডাবল কোলা, ইউরো কোলা’র বাড়িও নোয়াখালী। পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান জাতীয় সংসদের সাবেক  সদস্য হাশেম এর কথা মনে আছে। উনাকে সংসদ থেকে কয়েকমাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছিলো। উনি মাননীয় স্পীকারকে বারবার মাননীয় সাংসদ বলেছিলেন। নোয়াখালী ৪ আসনের বর্তমান এমপি একরামুল করিম চৌধুরী সংসদে বলেছিলেন “আমাকে সব কিছু নগদ নগদ দিয়ে দিতে হবে। মা বাবা নাম রেখেছেন একরাম চৌধুরী। পাবলিক আমারে কয় নগদ চৌধুরী। কারণ আমার সব নগদ কাজ কারবার।” এরপর কিছুদিন সংসদে না আসার জন্য বলেছিলেন স্পীকার। এতোকিছুর পরও বলি Man is Abul – মানুষ মাত্রই ভুল। ভুলকে ক্ষমা করে দিতে হয়।

যোগাযোগ মন্ত্রীর নাম সৈয়দ আবুল হোসেন হয়েই বিপদ হলো। উনার নাম যদি সৈয়দ আশরাফ হতো, তবে কি আর আমরা এভাবে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করতে পারতাম। এই যে সৈয়দ আশরাফ লন্ডন, ম্যানিলা শহরকে ভাগ করার মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমাদেরকে আবুল বানানোর চেষ্টা করেছেন, আমরাতো উনাকে “আবুল” “আবুল” বলে ক্ষ্যাপাতে পারছি না। এজন্যই বলি, নামে কী আসে যায়। দেশে এখন আবুলের চাষ চলতেছে। প্রচুর হাইব্রিড আবুল উৎপাদন হচ্ছে। বেশি আবুল আবুল করা এজন্যই ঠিক না।

December 3, 2011

জামায়াতী বর্ণমালা শিক্ষার আসর – এক

আসো আসো সবাই গোল হয়ে বসো। পড়া শুরু করলাম –

read more »

%d bloggers like this: