বিচ্ছিন্ন প্রতিবেদকঃ বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় না থাকলে বাংলাদেশ এতদিনে আমেরিকা হয়ে যেত। এই প্রতিবেদকের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, “ভাগ্যিস আমরা ক্ষমতায়। নইলে এই দেশে আমেরিকার মত প্রতিদিন শত শত মানুষ সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হত, টাওয়ার ভেঙে যেত, শাকিব খানের বিয়ে হত, অপু বিশ্বাস মোটা হত, সাবিলার নেইলস বড় হয়ে গেলে সে ভাত বেশি খেত। একটা চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিত।”
দেশের আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও জঙ্গীবাদ দমন বিষয়ে তার বিরুদ্ধে জনগণের অভিযোগ অস্বীকার করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল। অস্বীকার করে তিনি বলেন “দেখুন, এটা একটা অবান্তর অভিযোগ। আপনাকে গ্যারান্টি দিয়ে বলছি, আমি সবসময় জঙ্গী দমন করি। হয়তো আমার সেলিম ওসমান অত্যন্ত ভারী হওয়ার কারণে বাইরে গিয়ে জঙ্গী দমন করতে পারি না, কিন্তু অফিসে বসে বসে দমন করি। জানেনইতো, মন্ত্রী হওয়ার আগে আমার সেলিম ওসমান খুব হালকা ছিলো, কিন্তু মন্ত্রী হওয়ার পর এটা খুব ভারী হয়ে গেছে। এত ভারী সেলিম ওসমান নিয়ে বসা থেকে উঠতে কষ্ট হয়, বয়ে বেড়াতে কষ্ট হয়। কষ্ট না হলে শহরের অলি গলি তন্ন তন্ন করে জঙ্গী খুঁজে বের করতাম, তারপর দমন করতাম। আপনি হয়তো জানেন না, আমি জঙ্গী দমন খুব ভালোবাসি। আই লাইক জঙ্গী দমন।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ মন্ত্রীসভার কয়েকজন সদস্য সবসময় বলেন বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ দেশ, অথচ কিছুদিন আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন বাংলাদেশ পৃথিবীর ৩৩ তম নিরাপদ দেশ। এ বিষয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষন করলে তিনি বলেন, “হা হা হা। জানেন, এটা বলার পর পাবলিক রিঅ্যাকশন দেখে খুব হতাশ হয়েছি, টাশকি খেয়েছি। পাবলিক শুধু মতিকণ্ঠের স্যাটায়ারই বোঝে, কামালের স্যাটায়ার বোঝে না। বাংলাদেশ পৃথিবীর ১ নাম্বার নিরাপদ দেশ, আমি স্যাটায়ার করে বলেছি ৩৩ নাম্বার। অথচ পাবলিক তা বুঝলো না। পাবলিক আমাকে ষাঁড় বললো, ভাঁড় বললো, উন্মাদ বললো, ছাগল বললো। আমি কিছু মনে করিনি। কারণ ওরা আমার অবুঝ, ওরা আমার কাঁচা; আমি আমার আধমরাদের ঘা মেরে বাঁচাবো। এটা আমার এইম ইন লাইফ।”
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হলেন। তিনি একজন পর্দানশীল মুসলিম রমণী এবং অবশ্যই ব্লগার নন, কখনো সীমা লংঘন করেননি। তার খুনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিমত জানতে চাইলে মন্ত্রী অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেন। দুঃখ প্রকাশ করতে করতে চেয়ারের উপর হেলান দিয়ে শুয়ে পড়েন, তারপর শুয়ে শুয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। দুঃখ প্রকাশ শেষে মন্ত্রী জানালেন সন্দেহের তীর জঙ্গীদের দিকে। কারণ বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু মুসলিম, ঠিক আছে। তিনি পর্দানশীল, তাও ঠিক আছে। তিনি হিজাব পরেন, এটাও ঠিক আছে। কিন্তু মৃত্যুকালে তার নিকাব পরা ছিলো না। মুখ উন্মুক্ত ছিলো। তিনি কেন মুখ উন্মুক্ত রেখেছেন, এ বিষয়টা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন মন্ত্রী কামাল। কামাল বলেন, “যেহেতু মিতু ব্লগ লিখত না, ফেসবুকে স্ট্যাটাস লিখত না, সেহেতু আমরা তার বোরকা, হিজাব ও নিকাব খতিয়ে দেখবো। খুন করা অপরাধ, অন্যায়। কিন্তু মিসেস বাবুল আখতারেরও এভাবে চেহারা দেখি চলাফেরা করা উচিত হয়নি।”
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জঙ্গী ও সন্ত্রাসী হামলার পরিমাণ কমে এলেও বাংলাদেশে জঙ্গী হামলার ঘটনা বেড়ে চলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এরকম একটি প্রতিবেদনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষন করলে মন্ত্রী ক্ষেপে যান। ক্ষেপে গিয়ে বলেন “আম্রিকা যখন এসব বলে, পাবলিক তখন খুব খায়। আর আমরা যখন বলি বাংলাদেশ জঙ্গী দমনে রোল মডেল, তখন পাবলিক পেছন ঘুরে আমাদেরকে সেলিম ওসমান দেখায়। পাবলিক সবসময় আমার সেলিম ওসমান মেরে দেয়ার জন্য ওঁৎ পেতে থাকে। এই দেশের পাবলিকের কোন চরিত্র নেই। তাই আমরা মন্ত্রী এমপিরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমরা আমাদের সেলিম ওসমানের নিরাপত্তা চাই। ইজ্জত নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই। মন্ত্রী হলেও আমরাতো মানুষ। আমাদেরও আছে সম্মানের সহিত বেঁচে থাকার অধিকার।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সাথে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছাড়াও ধর্ম, বিজ্ঞান, বাজেট ও মুস্তাফিজ নিয়ে কথা হয়। ধর্ম ও বিজ্ঞান নিয়ে বলা তার কথাগুলো এই প্রতিবেদনে অনুল্লেখ রাখার অনুরোধ করে তিনি বলেন, “ভাই ধর্ম আর বিজ্ঞান নিয়ে যা বলছি, তা লিইখেন না। জঙ্গীদের মা বাপ নাই।”



Leave a Reply