দৈনিক মগবাজার

জমজম কূপের পানি সেক্স পাওয়ার বাড়ায়ঃ এরশাদ

জমজম কূপের পানি খেলে আমার মত পাওয়ারফুল থাকবেন – এরশাদ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, জমজম কূপের পানি ‘ইয়ে’র পাওয়ার বাড়ায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সাবেক এই সেনা প্রধান বলেন, “কালা জ্বর, চোরা জ্বর, শিরায় শিরায় জ্বর, অঙ্গে অঙ্গে জ্বর, ঘন ঘন প্রস্রাব, টিপে টিপে প্রস্রাব, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, খাউজানি, চুলকানি, সর্ব প্রকার যৌন ও চর্ম রোগ, ক্যান্সার, এইডস, হাঁপানি, ডায়রিয়া, আমাশয়, সর্দি, কাশিসহ সর্ব রোগের মহৌষধ হচ্ছে জমজম কূপের পানি।”

তারপর খুব লাজুক লাজুক চেহারায় বলেন, “এখানে অনেকেই হয়তো লজ্জা পাবেন, কিন্তু লজ্জা পাবার কিছু নেই। তাছাড়া পুরুষের জন্য একটা খুব জরুরী বিষয়। এটা জেনে রাখা দরকারি। জমজম কূপের পানি পুরুষের যৌন শক্তি বাড়ায়। আমি এই কূপের পানি খেয়েছি বলেই এতকিছু সম্ভব হয়েছে। জমজম কূপের পানি না খেলে সব অর্জনই অসম্ভব হয়ে যেতো।”

এরপর আচমকা নারায়ণগঞ্জে শিক্ষক নির্যাতন প্রসঙ্গ এনে এরশাদ একটি স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি শুরু করে দেন। কবিতার নাম “আল্লাহর ওলি, ফুলের কলি।”

সেলিম ওসমান আল্লাহর ওলি,

আমি হলেম ফুলের কলি।

রাতের বেলা শরম করে, তাই

দ্বীনের পথে চলি।

ওলির কাছে আসো

ফুলের মত হাসো।

সুন্দরী নারী দেখলে

মৃদু স্বরে কাশো।

আমরা সবাই আল্লাহর ওলি,

আমরা সবাই ফুলের কলি।

কবিতা আবৃত্তি শেষে তিনি নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত হয়ে যান। আক্রান্ত হয়ে বলেন, “গান, কবিতা, ফুল. প্রেম আমাকে পাগল করে দেয়। কত কিছু মনে পড়ে যায়। নদীর কথা, গ্রামের কথা, সমুদ্রের কথা, ঝরনার কথা, পাহাড়ের কথা… কত কথা। আহারে পাহাড়! আজ নাকি বান্দরবনের থানচি’র মানুষ চালের অভাবে জংলি আলু আর কলাগাছ খেয়ে বেঁচে আছে। কী বোকা! কী বোকা! আসলে যে যত উপরে থাকে, সে তত বোকা হয়, মূর্খ হয়।”

এরশাদ বলেন, “সেলিম ওসমান অষুধ পাচ্ছে না, জমজম কূপের পানি খেয়ে বেঁচে আছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যর্থতার কারণে কাউকে মুখ দেখাতে পারতো না। এখন জমজম কূপের পানি খেয়ে সংবাদ সম্মেলনে নির্লজ্জের মত হাসে। খালেদা জিয়ার টাকার অভাব, পানি কিনতে পারেন না। ওই পানির বদলে এখন এই পানি খান। কাজ হয়ে যায়। শেখ হাসিনাতো জমজম কূপের পানি খেয়ে দেশের মোল্লাদের নাকে দড়ি লাগিয়ে ঘুরাচ্ছেন, রেলের জমি দিচ্ছেন, সবকিছু সামাল দিচ্ছেন। তাই অতিসত্ত্বর থানচির দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষদের জন্য জমজম কূপের পানি পাঠানোর দাবি জানাই। এই পবিত্র পানির উপর গরীবেরও হক আছে। তাদের হক বুঝিয়ে দিতে হবে।”

এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্ন আহবান করলে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, “আপনি কি ওই কাজের সময় শুধুই জমজমের কূপের পানি খান? এতেই হয়ে যায়?” জবাবে এরশাদ একটা চোখ টিপুনি দিয়ে বলেন, “কী বোকা! কী বোকা! জমজম কূপের পানি দিয়ে টেবলেট খাই, এটাও বুঝে না! ব্যাটা, শুধু পানিতে কী আর হয়, সাথে দুই চারটে হারবাল না থাকিলেই নয়।”