দৈনিক মগবাজার

মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ৩০ লক্ষ ১ জন – খালেদা জিয়া

শহীদের সংখ্যা নিয়ে গবেষণা করতে করতে ক্লান্ত খালেদা জিয়া।

মগবাজার ডেস্কঃ মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কের ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ ও আলোচনা সভায় খালেদা জিয়া বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ত্রিশ লক্ষ বলা হয়, এটা নিয়ে বিতর্ক আছে।”

তার বক্তব্য নিয়ে সৃষ্ট বিকর্তকে অহেতুক বলে মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, “নিশ্চয় আমার মাঝে বিশেষ কিছু আছে। নইলে আমি কিছু বললেই বিতর্ক হয়ে যায় কেন?” আজ সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

বিবৃতিতে বেগম জিয়া বলেন, “আমি বললাম মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে। তারপর সবাই ক্ষেপে যায় এবং গভীরভাবে লক্ষ্য করলাম আমাকে নিয়েই একটি বিতর্ক হয়ে যায়।”

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১০ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে গবেষণা করতে শুরু করেন। তাকে গবেষণা শুরু করতে হয়েছে কারণ কোন রকম গণনা ছাড়াই বলা হয়ে থাকে শহীদের সংখ্যা ত্রিশ লক্ষ। খালেদার মতে এটা ঠিক নয়। গণনা ছাড়া সংখ্যা নির্ণয় করা মারাত্মক অসততা। এসব যারা করে তারা অসৎ।

তাই তাকেই সৎ লোক হতে হয়েছে এবং শহীদের সঠিক সংখ্যা নির্ণয়ে নিরলস পরিশ্রম করতে হয়েছে। গবেষণা শেষে তিনি দেখতে পান, শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিশাল নয় ছয় হয়েছে। এখানে দুর্নীতি হয়েছে।

বেগম খালেদা জিয়ার স্বাক্ষর করা বিবৃতিতে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা মূলত ত্রিশ লক্ষ একজন। খুব সুকৌশলে হিসাবে একজন শহীদ কম দেখানো হয়। আমি এই কথা আমার দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে বললাম। ফখরুল আমাকে বলে, “ম্যাডাম, এক কম হলে আর কী হয়!” আমি ফখরুলের কথা শুনে অবাক হয়ে যাই। তারপর ফখরুল আমাকে আরো অবাক করে বলে, “ম্যাডাম, কয়দিন আগে নিউজে পড়েছি হিটলারেরও নাকি এক কম ছিলো। তাতে কী হয়েছে? হিটলারের এক বিচি কম থাকায় কি যুদ্ধ কম হয়েছে? হয় নাই।” তারপর ফখরুলের প্রতি আমার রাগ হয়। কারণ মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ ১ জন শহীদ হয়।

বেগম জিয়া বলেন, মুক্তিযুদ্ধে প্রকৃত শহীদের সংখ্যা হচ্ছে ৩০ লাখ + শহীদ জিয়া = ৩০ লাখ ১ জন। বঙ্গবন্ধু না হয় শহীদ জিয়ার মৃত্যুর আগে বলেছিলেন শহীদের সংখ্যা ৩০ লাখ। কিন্তু শহীদ জিয়ার মৃত্যুর পর আমরা কেন সেটাকে ৩০ লাখ ১ জন বলবো না? সবার প্রতি এই প্রশ্নটি রইলো।

সবাই বলে “শহীদ জিয়া মারা গেছেন মুক্তিযুদ্ধের পর। তাহলে তিনি ক্যামনে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন?” এটা কোন প্রশ্ন হলো? আমরা সবাই মুক্তিযুদ্ধ ভুলে যাই। সবাই মনে করে যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে। তাই বিএনপি মাঝে মাঝে মুক্তিযুদ্ধের কথা মনে করিয়ে দেয়। এই যে কিছুদিন আগে লাগাতার পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ মেরে সবাইকে বুঝিয়ে দিয়েছি যুদ্ধ কত ভয়াবহ। মানুষ বুঝতে পেরেছে যুদ্ধ এখনো শেষ হয় নাই।

শহীদ জিয়াকে মুক্তিযুদ্ধের সর্বশেষ শহীদ উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, শহীদ জিয়াই মুক্তিযুদ্ধের সর্বশেষ শহীদ। এরপর বাংলাদেশে আর কোন শহীদ আসবে না। আমি বলি বিষয়টা মানিয়া লও। কিন্তু আমি জানি তোমাদের ঘাড় ত্যাড়া, তোমরা এটা মানিয়া লইবে না।

এর আগে ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ দুপুরে আরজে শহীদ জিয়া বেতারে বললেন তিনি বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষনার দিচ্ছেন। আওয়ামীলীগ মানিয়া লয় নাই। তারা ধমক দিয়ে বলে ‘অন বিহেফ অব শেখ মুজিব’ বলিতে। জিয়াউর রহমান মানিয়া লইলেন। তারও অনেক পরে আমি বললাম আরজে শহীদ জিয়াই স্বাধীনতার ঘোষক। তোমরা কেউ মানিয়া লও নাই। এখন আমি আবার বললাম মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ৩০ লক্ষ ১ জন। এইটা মানিয়া লও। এইটা মানিয়া লইতে তোমাদের কী সমস্যা? তোমরা কি মনে করো মুক্তিযুদ্ধে শুধুই ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হইছে? এইটা তোমরা কিভাবে ভাবতে পারো! তখনকার বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী, সুন্দর, সুঠাম ও বলিষ্ঠ সেনাবাহিনী দীর্ঘ ৯ মাসে মাত্র ৩০ লাখ মানুষ মেরেছে? না। নিশ্চয় তারা আরো একজন বেশি মেরেছে। হয়তো সেটা যুদ্ধের পরে মেরেছে। তাই বলে তোমরা তাকে শহীদ হিসেবে গোনায় ধরবা না?

শহীদ জিয়াকে বাংলার জনগণ ভালোবাসতো। বঙ্গদোস্ত শহীদ জিয়াকে যারা মেরেছে তারা কখনো বাংলাদেশি হইতে পারে না। তারা অবশ্যই পাকিস্তানি। তাহলে পাকিস্তানের হাতে নিহত শহীদ জিয়াকে মুক্তিযুদ্ধের শহীদ হিসেবে গণনা করিতে তোমাদের সমস্যা কোথায়? – এ প্রশ্ন রাখেন তিনি।