রাজধানীর হোসনি দালানে শিয়া সম্প্রদায়ের তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিতে বোমা হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছে। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস)। কিন্তু পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা। সরকার ও আওয়ামীলীগ বলছে অন্য কথা। তাদের কারো কথার সাথে আইএস এর দাবির সাথে মিল নেই।
এ বিষয়ে দৈনিক মগবাজারের মুখোমুখি হয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক।
দৈ.মঃ শিয়াদের মিছিলে বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস। তার মানে বুঝা গেলো আইএস এই হামলা করেছে। আপনার কী মনে হয়?
আইজিঃ দেখুন, আইএস হচ্ছে ফরেইন জংগী। এই দেশে ফরেইন বলেন আর লোকাল বলেন, কোন জঙ্গীই নেই। আপনিই খুঁজে দেখুন না, কোথাও একটা জঙ্গীও পাবেন না। সুতরাং এটা জঙ্গীদের কাজ নয়।
দৈ.মঃ তাহলে হামলা কে করেছে?
আইজিঃ এটা পরিকল্পিত হামলা এবং এই হামলার তথ্য আমাদের কাছে ছিলো। তথ্য থাকলেও আমরা নাশকতা ঠেকাইনি। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে, গণতন্ত্র সুসংহত করার স্বার্থে আমরা নাশকতাকারীদের সুযোগ দিয়েছি।
দৈ.মঃ কিন্তু এই সুযোগেতো ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এর দায় দায়িত্ব কে নিবে?
আইজিঃ কে বলেছে আপনাকে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে? একই সময়ে পাকিস্তানে শিয়াদের উপর হামলায় ৩০ জনের বেশি নিহত হয়েছে, নাইজেরিয়ায় মসজিদে বোমা হামলায় ৪২ জন নিহত হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশে মাত্র ১ জন নিহত হয়েছে। এটাকে কোনভাবেই ব্যাপক বলা যায় না। তাছাড়া হতাহতের দায়তো আইএস স্বীকার করেছেই, আবার আমাকে জিজ্ঞাসা করেন কেন!”
দৈ.মঃ কিন্তু আপনিতো বলেছেন আইএস এই হামলা করেনি।
আইজিঃ সেটাতো আমি বলেছি, আপনিতো বলেননি। আপনি যা বলেন, তা কি বিশ্বাস করেন না? আপনি কি অবিশ্বাসী? আপনি কি সীমা লঙ্ঘন করেন?
দৈ.মঃ ইয়ে মানে, না, ঠিক আছে, আমি ঠিক আছি, বিশ্বাসী। কিন্তু তথ্য থাকা সত্ত্বেও কেন নাশকতা ঠেকাননি?
আইজিঃ নাশকতা ঠেকিয়ে দিলেতো নাশকতাকারীদের গ্রেফতার করা যেতো না। নাশকতাকারীদের ধরার জন্য এটা আমাদের বিশেষ কৌশল। আগে নাশকতা করো, পরে ধরা পড়ো। নাশকতা হয়েছে, আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। ফুটেজ সংগ্রহের জন্য একটা কমিটি গঠন করেছি, ফুটেজ বাছাইয়ের জন্য একটা কমিটি, যাচাইয়ের জন্য একটা কমিটি, বিশ্লেষনের জন্য আরেকটা কমিটি, এবং সবগুলো কাজ তদারকির জন্য আলাদা একটা কমিটি গঠন করেছি। এই কমিটির কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য একটা ট্রান্সপারেন্সি কমিশন গঠন করেছি। নাশকতা না হলেতো এতগুলো কাজ সম্ভব হতো না।
দৈ.মঃ এতগুলো কাজ করার পর আপনারা কী করবেন?
আইজিঃ এরপর আমরা নাশকতাকারীদের গ্রেফতার করবো, বিচারের মুখোমুখি করবো, জামিন পাইয়ে দিবো, বিদেশে পালিয়ে যেতে সাহায্য করবো, অপরাধীকে দেশছাড়া করবো, সুবিচার নিশ্চিত করবো।
দৈ.মঃ এখন পর্যন্ত কোন ক্লু পেয়েছেন, যা ধরে তদন্ত শেষ করতে পারবেন?
আইজিঃ আমরা কোন ক্লু না পেলেও বলে দিতে পারবো কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এটা কোন সমস্যা না। এটাতো আমরা আগে থেকেই জানি।
দৈ.মঃ তাহলে তা প্রকাশ করছেন না কেন?
আইজিঃ করবো না কেন? এখনই করবো। প্রথমত বোমা ফাটিয়েছে ব্লগার বিএনপি। তারপর ফাটানো বোমার ছিন্নভিন্ন অংশ কুড়িয়ে নিয়ে আবার ফাটিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ব্লগার খালেদা জিয়া। এরপর বোমা গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যায়। গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে গেলে লন্ডন থেকে এসে বোমার সব গুঁড়ো একসাথ করে একটু জল মিশিয়ে আটার দলার মত বানিয়ে বোমাটি ফাটিয়ে আবার লন্ডন চলে যান বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারপার্সন ব্লগার তারেক রহমান। এবার ফাটানোর পর আটার দলা পুড়ে রুটি হয়ে যায়। শেষে এক ঝাঁক নাস্তিক ব্লগার এসে রুটি পোড়া খেয়ে আবার এসাইলামে ফিরে যায়।
দৈ.মঃ তারমানে তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলার সাথে ব্লগাররা জড়িত?
আইজিঃ হ্যাঁ। কিন্তু ব্লগাররা এটা ঠিক করেনি। তারা সীমা লংঘন করেছে। পুলিশ ব্লগারদের ছাড়বে না। আমরা তাদেরকে হেফাজতে নিবো, নিরাপত্তা দিবো, কাউন্সেলিং করাবো, হাতে পায়ে লোশন মেখে দিবো, চুলে চিরুনি করে দিবো, ডিম দিয়ে রুটি খাওয়াবো, ঘুম পাড়ানি গান শুনিয়ে দিবো, তাদেরকে শেষ করে দিবো।
এ কথা বলতে বলতে আইজিপি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। উত্তেজিত হয়ে তিনি বলেন, “আপনি চলে যান। আমি এখন উত্তেজিত। আমাকে বাসায় যেতে হবে।”



Leave a Reply