ব্লগারদের জন্য সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত আসন

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ জাতীয় সংসদে এবার ব্লগারদের জন্য সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে সরকার। সংসদ সচিবালয়ের একটি সূত্র খবরটি নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, ব্লগারদের জন্য মোট ৫০ টি আসন রাখার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। শীগ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষনা আসবে।

আস্তিক ব্লগারদের জন্য ২৫টি এবং নাস্তিক ব্লগারদের জন্য ২৫টি আসন থাকবে। শুরুতে মুরাদ টাকলাদের জন্য ১০ টি আসন রাখার প্রস্তাব আসলেও পরে তা বাতিল করা হয়।

শাহবাগ আন্দোলনের পর থেকে দেশে ব্লগার শব্দটি ব্যাপকভাবে আলোচিত। বিতর্কতিও বটে। ব্লগে নোংরা ভাষায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে কটুক্তি করার বিষয়টি আমলে নিয়ে সম্প্রতি সরকারও ব্লগারদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার ঘোষনা দিয়েছে। পুলিশ, র‍্যাবসহ গোয়েন্দা বাহিনীগুলো তালিকা ধরে কয়েকজন ব্লগারের বিরুদ্ধে তৎপরতা শুরু করেছে। এমতাবস্থায় হঠাৎ ব্লগারদের জন্য সংসদে আসন বরাদ্ধের মত ঝুঁকি নিতে যাচ্ছে সরকার।

সংসদ অধিবেশন চলাকালীন ছবি

সংসদ অধিবেশন চলাকালীন ছবি

এ বিষয়ে আমরা প্রথমে কথা বলি অভিজ্ঞ সাংসদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সাথে। তিনি জানান, “দেশে কোন বিরোধী দল নাই। জিয়াউর রহমানের বৌয়ের দলের নামটা যেন কী? বিএনপি না কী যেন, ওটাতো বিলীন হওয়ার পথে। বিরোধী দল বলতে এখন ব্লগ ও ফেসবুক। ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিস্টরাই মূলত বিরোধী দলের ভূমিকা রাখছে। তারা সংসদে আসলে ভালোই হবে। এটা গণতন্ত্রের বিকাশে গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে।”

আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে থাকা আনিসুল হক এই প্রতিবেদককে বলেন, “আমরা খেয়াল করেছি ব্লগাররা ব্লগে ফেসবুকে অশ্লীল ইংগিতপূর্ণ লেখালেখি করে। গালাগালি করে, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কটুক্তি করে, সম্মানহানি করে। অথচ ব্লগ হচ্ছে একটা পবিত্র জায়গা। আমরা চাই ব্লগ থাকুক পবিত্র পরিচ্ছন্ন।

তিনি বলেন, “কিন্তু বাক স্বাধীনতার এই যুগে আমরা কারো মুখ বন্ধ রাখতে পারি না। তাই ব্লগারদেরকে সংসদে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। লেখালেখি ব্লগে সুন্দর, গালাগালি সংসদে। যেখানে যেটা মানায়। ব্লগাররা সংসদে আসবে, চুতমারানি গাইল দিবে। আমরা তাদের গালি সংসদে শুনতে চাই, ব্লগে নয়।”

ব্লগাররা সংসদে যেতে চায় কিনা, এটা জানার চেষ্টা করেছে দৈনিক মগবাজার। কয়েকজন ব্লগারের সাথে কথা বললে তারা সবাই প্রায় একই রকম মন্তব্য করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্লগার বলেন, “আমরা সংসদে যাবো কেন? তাও আবার সংরক্ষিত আসনে! বরং সাংসদরাই ব্লগে আসুক, ফেসবুকে আসুক। সংসদ হচ্ছে পবিত্র জায়গা। মহান জায়গা। তারা সেখানে গালাগালি বকাবকি না করে ব্লগে আসুক। ব্লগে এসে গালাগালি করুক। তা না করে ব্লগার ও ফেসবুকারদের লেখালেখি বন্ধ করার ষড়যন্ত্র করছে। সরকারের এসব ইয়ের সিদ্ধান্তকে ইয়ে করার কোন ইয়ে আমাদের নেই।”

আরেকজন ব্লগার বলেন, “ব্লগ ফেসবুকের দুয়ার খোলা। এখানে লেখার জন্য বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হতে হয় না, ভোট জালিয়তি করতে হয় না। যে কেউ চাইলে লিখতে পারে। সাংসদরাও পারবে।”

সরকার শেষ পর্যন্ত ব্লগারদেরকে সংসদে আনতে পারবে কী পারবে না, তা সময় বলে দিবে। কিন্তু সরকারের এমন সিদ্ধান্ত জনমনে কেমন প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে অনেকেই শংকিত।

3 Comments to “ব্লগারদের জন্য সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত আসন”

  1. ব্লগাররা সংসদে গেলে হেফাজতের কি হবে? শফি হুগুরের দিকটাও বিবেচনায় রাখতে হবে । আর ব্লগ দিয়ে ইন্টারনেট চললেও সংসদ আদৌ চলবে কি না সন্দেহ থেকে যায়

    Like

  2. রীতিমত ভয়াবহ একটা ব্যাপার

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: