কাঠগড়ায় কাঁদলেন মুজাহিদ, কাওরান বাজারে বন্যা

কাওরান বাজার প্রতিনিধি ::

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আজ মঙ্গলবার জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের অভিযোগের বিষয়ে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়। একপর্যায়ে আসামির কাঠগড়ায় থাকা মুজাহিদ কেঁদে ফেলেন। ট্রাইব্যুনালে থাকা মুজাহিদের স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েও তাঁর কান্না দেখে কেঁদে ফেলেন। তাদের কান্না দেখে আসামীর আইনজীবীও কেঁদে দেন।

বিষয়টা কোনভাবেই মেনে পারছেন না মতিউর রহমান

বিষয়টা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না মতিউর রহমান

আদালতে উপস্থিত দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিনিধি অফিসে ফোন করে সম্পাদকের অনুমতি নিয়ে তিনিও কান্না শুরু করেন। প্রতিনিধি থেকে খবর পেয়ে সম্পাদক মতিউর রহমান চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। অন দ্য স্পট তিনি কেঁদে দেন। এ সময় সম্পাদকের রুমে একটি লেখা দেখাতে আসেন সাহিত্য সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফ। সম্পাদকের কান্না দেখে সাজ্জাদ শরীফ ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কেঁদে ফেলেন।

লেখা না দেখিয়ে ফিরে যাওয়ার সময় নিউজরুমের সবাই দেখে ওরাও কান্নাকাটি শুরু করে। এসময় নিউজরুমে প্রচুর আবেগের সৃষ্টি হয়। ঠিক তখন অফিসে আসেন উপ সম্পাদক আনিসুল হক। অফিসে ঢুকে দেখেন হাঁটু পরিমান অশ্রুজল। জল দেখেই তার কান্না পায়। পরে যখন শুনলেন আদালতের কাঠগড়ায় আলী আহসান মুজাহিদ কান্না করেছেন, তখন আনিসুল হক নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। তার বুক ভেঙে যায়। ভাঙা বুক নিয়ে টেবিলের উপর বসে বসে তিনি কাঁদছেন।

খুব দ্রুত কার্যালয়ের সব ফ্লোরে কান্নাকাটির খবর পৌঁছুলে জলোচ্ছ্বাসের পরিমান বাড়তে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যে ৫ ফুট উচ্চতায় জল বাড়তে থাকে। সন্ধ্যার পর অফিসের গেইট দিয়ে জল বাইরে গড়াতে শুরু করে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কাওরান বাজারে এখন হাঁটু পরিমান জল।

প্রতিবেশীর বিপদের খবর শুনে এটিএন নিউজ অফিস থেকে মুন্নি সাহা আসেন প্রথম আলো অফিসে। কোনমতে পানি সাতরে মতিউর রহমানের রুমে গিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, “আপনার অনুভূতি কী?” মতিউর রহমান মুন্নি সাহার দিকে তাকিয়ে ঢুঁকরে কেঁদে উঠেন।

এইমাত্র পাওয়া খবরে জানা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা শুকনো খাবার, স্যালাইন ও বিশুদ্ধ জলসহ বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে কাওরান বাজারের দিকে রওনা দিয়েছেন।

4 Comments to “কাঠগড়ায় কাঁদলেন মুজাহিদ, কাওরান বাজারে বন্যা”

  1. অদ্ভুত……………………………………………..

    Like

  2. আঙ্গুল তোলে;অবঙ্গা নিয়ে কথা বলতেন আর মুখ বাকিয়ে,চোখগুলো ছোট করে হাসতেন…..আমি নিরবে কাঁদতাম আর আল্লাহর কাছে তোর বিরুদ্ধে নালিশ জানাতাম…….উপর ওয়ালা আমার ডাক কবুল করেছেনে…….আজ তুই কাঁদছিস আর আমি হাসছি……….মুক্তিযোদ্ধারা কখনো মরেনা।

    Like

  3. ৭১ এ কি আমাদের মা বোনেরা কি তাদের পা ধরে কাঁদেনি যেন তাদের সম্ভ্রম কেড়ে নেওয়া না হয় এই অনুরোধ নিয়ে? তাদের করুণ কাকুতি মিনতি কি চোখে পড়ে না?? এক বৃদ্ধ পিতার কান্না কি চোখে পড়ে না যে তার সন্তানের প্রাণ তাদের কাছে ভিক্ষা চাচ্ছে? কোন স্ত্রীর কান্না কি চোখে পড়ে না যে তার স্বামীর প্রাণ তাদের কাছে ভিক্ষা চাচ্ছে?? কোন হাত-পা বাধা স্বামীর কান্না কি চোখে পড়ে না যার চোখের সামনে তার প্রাণ প্রিয়তমাকে এই শকুনেরা মৃত্যু পর্যন্ত ধর্ষণ করছে?
    একাত্তরে আমার ভাই বোনেরা অঝোর ধারায় কেঁদেছে। আর নয় । এই বার এই শকুনিদের কাঁদার পালা..

    Like

  4. সিরাম হইসে

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: