স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগের প্রয়োজন নেই

 

২৭ জুলাই ২০১১

আমরা প্রায়ই পত্র-পত্রিকায় বিদেশী মন্ত্রী অথবা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের পদত্যাগের খবর পড়ি। বাংলাদেশেও কালেভদ্রে এ ধরনের খবর পাওয়া যায়। তবে সেটা হয়, “রাষ্ট্রপতি/প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে পদত্যাগ” জাতীয় খবর। বাংলাদেশের মন্ত্রী এবং অন্যান্য দায়িত্বশীলদের পদত্যাগ না করার ফলে প্রমাণিত হয়, বাংলাদেশের স্ব স্ব দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ যথেষ্ট সফল। প্রশাসনিক দায়িত্বের এতো বিরাট সফলতা বিশ্বের আর কোন দেশে নেই। যে দেশে মন্ত্রীদের পদত্যাগের হার যত বেশি সে দেশের মন্ত্রীরা ততো বেশি ব্যর্থ। সে হিসেবে বলা চলে ইউরোপের দেশগুলো অনেকটাই ব্যর্থ রাষ্ট্র। অথচ দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওরা আমাদের চেয়ে ধনী এবং সভ্য।

দেশের মানুষ ফাইলবন্দী আইনগুলোকে এখন হাতে তুলে নিচ্ছে। প্রায়ই ওরা হুশে বেহুশে অল্প অল্প করে মানুষ মারছে। সম্প্রতি আদমশুমারীতে দেশের জনসংখ্যা অস্বাভাবিক কম দেখানো হয়। এ নিয়ে সমালোচনায় পড়ে সরকার। পুনরায় শুমারী চালিয়ে যাওয়া অর্থ অপচয়ের নামান্তর। সেক্ষেত্রে বাড়তি জনসংখ্যা কমিয়ে ফেলা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। দেশের জনসংখ্যা বেড়েছে জনগণের কারণে। কনডম কিনতে অনীহা দেখিয়ে মাছের পোনার মতো মানুষ বানিয়েছে, এখন এসব মাছের পোনা ধ্বংসের দায়িত্বও দেশের জনগণকেই নিতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতোমধ্যে দেশের মানুষকে আন্তরিক ধন্যবাদ দিয়েছেন। সম্প্রতি চালকের ভুলে মিরসরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনা, আমিন বাজারে গনহত্যা এবং সর্বশেষ নোয়াখালীতে গণপিটুনি দিয়ে দেশের জনগণ তাদের দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতার প্রমাণ রেখেছে। এভাবে চলতে থাকলে এ সরকারের আমলেই দেশের জনসংখ্যা ৭ কোটিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে। ৭২ এর সংবিধানের মতো আমরা ৭২ এর জনসংখ্যায়ও পৌঁছে যেতে পারবো।

অর্থমন্ত্রী সম্প্রতি দ্রব্যমূল্যের বিষয়ে জনগণকে বাজার বিরতিতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, একদিন বাজার বয়কট করলে ব্যবসায়ীরা দাম কমাতে বাধ্য হবে। তিনি আরো বলেন, “ব্যবসায়ীদের সাথে সরাসরি জনগণের সম্পর্ক। সরবরাহকারী এবং ভোক্তার মাঝখানে বসে একজন অর্থমন্ত্রী হিসেবে গুপ্তকেশ পরিচর্যা ছাড়া আমার আর কোন কাজ নেই।” জনগণকে সচেতন করার জন্য একজন মন্ত্রীর এমন আন্তরিকতার নজির স্বয়ং পাকিস্তানের মতো প্রগতিশীল রাষ্ট্রেও নেই। শেয়ার বাজার ইস্যুতেও জনগণ চাইলে মাঠে নামতে পারে। অর্থমন্ত্রী যখন নিজের গুপ্তকেশ নিয়ে বেশি ব্যস্ত, জনগণ তখন দরবেশ সাহেবদের প্রকাশ্যকেশগুলো উচ্ছেদ করতে পারে। অবশ্য দেশের দরবেশরা গালের উপর বালের খামার করে আল্লাহর নামে রিজিকের বরকত করে যাবেন, এখানে ঈর্ষান্বিত না হলেও চলে। সৃষ্টিকর্তা কখন কোথায় কার রিজিকের ব্যবস্থা করে রেখেছেন, তা একমাত্র তিনিই ভালো জানেন।

সরকার ধীরে ধীরে গণমূখী হচ্ছে। দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণের উপর নির্ভর করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন। দ্রব্যমূল্য কমানোর জন্যও অর্থমন্ত্রী নির্ভর করছেন জনগণের উপর। জনগণের খানসামা আয়া’রা জনগণের উপর নির্ভর করছে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় এরচেয়ে সুখবর আর কিছুই হতে পারে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্ভরতার প্রতি সম্মান দেখিয়ে জনগণ খুব মনযোগের সহিত মানুষ হত্যায় মগ্ন হয়েছে। ঠিক একইভাবে অর্থমন্ত্রীর আহবানে সাড়া দিয়ে এদেশের মানুষ না খেয়ে না দেয়ে সময় করে একদিন রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চেয়ে যেদিকে দু’চোখ যায়, সেদিকে চলে যাবে।

পরিশেষে এ কথা বলা যায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগের প্রয়োজন নেই।

4 Comments to “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগের প্রয়োজন নেই”

  1. vai , ai prothom apnader kono news pore hasi aslo na . borong kosto laglo.

    Like

  2. আশা করি নিয়মিত সমপাদকীয় লিখবেন। এখানে আসলে আমাদের মনের কথা গুলো পড়তে পারি। এ পোস্টে একটা লাইনও মিথ্যা পরিনি। এসবই আসলে সত্য।

    Like

  3. অর্থমন্ত্রী যখন জনগণকে বাজার বিরতিতে যেতে বলেন, তখনই তার পদত্যাগপত্র গ্রান্টেড হওয়ার কথা!!!!!!!!!!!!!!!!

    গুডপোস্ট!

    Like

  4. valo legese, thought ta awesome. vasha gulu o jothartho

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: