নোবেল পেতে পারেন শেখ হাসিনা

মন্তব্য প্রতিবেদন

শান্তি বিষয়টাকে অনেকে কবুতরের সাথে গুলিয়ে ফেলেন। সবাই ভাবে, যে দেশে কবুতর উড়ে, সে দেশে শান্তির চুম্বনে লালার বন্যায় সব অশান্তি ভেসে যাচ্ছে। আসলে শান্তির রূপের গহিনে প্রবেশ বেশ সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। মনে করেন কেউ আপনাকে ধর্ষন করতে চাচ্ছে। ধস্তাধস্তিতে না গিয়ে চুপচাপ শুয়ে পড়ে তাকে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্ষণকার্য চালিয়ে যাবার সুযোগ করে দেয়াও শান্তির পক্ষে কাজ। এর জন্য আপনি নোবেলও পেতে পারেন। সে হিসেবে কখনো যোগ্য মনোনয়নের অভাবে নোবেলকে বিলুপ্ত ঘোষনার প্রয়োজন পড়বে না। বাংলাদেশের ষোলকোটি জনগনের একেকজনকে শান্তিতে নোবেল দিতে গেলেইতো নোবেলের ষোলকোটি বছর কেটে যাবে। চুপচাপ শুয়ে থেকে শান্তিপূর্ণভাবে বালাৎকার হওয়ার এমন উৎকৃষ্ট উদাহরণ আর কোথাও পাবেন না।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে শেখ হাসিনার এখন পর্যন্ত ভূমিকা বেশ চমকপ্রদ। একদা বিএনপির সাথে ভাগাভাগি করে জনগনকে আকাম করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্ম দেয়ার কাজে জোরালো ভূমিকা রেখেছেন। এখন আবার কোন রাখঢাক না রেখেই ধর্ষনের যৌথ খামার করার জন্য খালেদাকে সমঝোতায় ডাকছেন। ডাকার স্টাইলটাও চমতকার।

ড. ইউনূসকে হেনস্থার পর ‘হাসিনা কেন নোবেল পাবে না’ পারলে এই মর্মে হাইকোর্টকে দিয়ে রুল জারি করতো হাসিনার আশেপাশে থাকা কুলাংগাররা। অ্যার্টনী জেনারেল যেভাবে নগ্ন পন্থায় ইউনূসের নোবেল কেড়ে নিতে গিয়ে শেখ হাসিনা এবং সন্তু লারমাকে নোবেল পাইয়ে দিতে চেয়েছেন, তা সত্যিকারর্থে খুব যুতসই দালালী হয়েছে। আমরা বিমুগ্ধ ভদ্রলোকের এমন পারফরম্যান্সে। সর্বশেষ খবর হচ্ছে শেখ হাসিনার পক্ষে নোবেল লবিং করতে ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা পশ্চিমা রাষ্ট্রসমূহ সফরে বের হয়েছেন। শুরুতেই আছেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে গিয়ে শেখ হাসিনা কেন নোবলে পাবেন, এটার স্বপক্ষে বাংলাদেশী স্টাইলে বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে বেড়াবেন উনারা। এতে করে পশ্চিমাদের হিউমার স্টপগ্যাপে যথার্থ যোগান স্বরূপ নি:সৃত দোয়ায় দেশের ভাবমূতি কিছুটা বৃদ্ধি পেলে মন্দ কি!

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইস্যুতে শেখ হাসিনা অবশ্যই নোবেল পেতে পারেন। প্রয়োজন কেবল একটা সংযুক্তি। শেখ হাসিনা বললেন, ‘আমাদেরকে অপমান করার সুযোগ তাদেরকে কেন দেবো?’ নিজেদের মান বাঁচানোর জন্যই এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রথা বাতিল করতে হচ্ছে। অথচ মূলা কিন্তু গণতন্ত্র! পুরো বিষয়টা এরকম- উনাদেরকে জনগণ অপমান করতে পারবে না, তত্ত্বাবধায়করাও পারবেন না। উনারা অপমানের উর্দ্ধে। একেজন চ্যাটের বাল খ্যাতা কাটা!

জনগণতো অপমান করার স্পর্ধাই রাখে না, এখন তত্ত্বাবধায়কদের স্পর্ধাও রহিত হলো। সব মিলিয়ে বিরোধীদলকে আমন্ত্রন জানিয়েছেন শান্তিপূর্ণ লুটপাটের। অতীতে দেখেছি শান্তিপূর্ণ লুটপাটেও আহসান উল্লাহ মাস্টার, কিবরিয়া’র মতো নেতাদের রক্তে বেশ অশান্তির সূত্রপাত ঘটেছিলো। এ যায়গাটাতে যদি হাসিনা কাজ করতে পারেন, তবে রক্তারক্তিহীন তৎপরতায় দেশের পশ্চাতদেশ মারার ব্যবস্থা করার জন্য শেখ হাসিনা নোবেল পেতেই পারেন। এটা যৌক্তিক দাবি।

এখন খালেদার মতো বেয়াক্কেল যদি শান্তির পক্ষে অবস্থান নেয়, তাতেই হলো। কিন্তু খালেদা মনে হয় হাসিনাকে নোবেল পাইয়ে দিতে আন্তরিক হবেন না। খালেদার এ অবস্থানও যৌক্তিক। কারণ নোবেল লবিং টিমে হাসিনা চাইলেই এ্যানি, পিন্টুর মতো লোকদেরও ঢুকিয়ে দিতে পারতেন। এতে করে দু’জনেরই নোবেল প্রাপ্তি নিশ্চিত হতো। এখন হাসিনা যদি নোবেল পেয়েও যান, তবে বৈষম্যের অভিযোগ এনে ভবিষ্যতে খালেদার অ্যার্টনী জেনারেলও নানান বক্তব্য দিতে পারেন। এমনকি নোবেল কেড়েও নিতে পারেন অথবা ভাগও বসাতে পারেন।

সবকিছু অবশ্য কবুতর উড়ানোর উপর নির্ভর করছে। এদেশে জিয়াউর রহমান কবুতর উড়িয়েছেন, এরশাদও উড়িয়েছেন। এমনকি নিজামীও! জাতীয় পতাকার সামনে থেকেই উড়িয়েছেন। এতো শান্তি যে দেশে, সে দেশের প্রধানমন্ত্রী নোবেল না পেলে আলফ্রেড নোবেলের আত্মা কখনো শান্তি পাবে না।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: